দেশি বার্তা - ২৪ ঘন্টা দেশের খবর

সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০১৫

মেলবোর্নে ‘পরিচিত’ উইকেট পাচ্ছে বাংলাদেশ



সোমবার, ১৬ মার্চ ২০১৫



e8t76s89দেশি বার্তা অনলাইন ডেস্ক: গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল। সেদিন এমসিজিতে বাংলাদেশ যেই উইকেটে খেলেছিল ভারতের বিপক্ষে একই উইকেটে খেলবে!


বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহে এমনটিই ধারণা দিয়েছেন। সোমবার এমসিজিতে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেই উইকেটে আমরা খেলেছি সেই উইকেটে ১৯ মার্চের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উইকেট থেকে স্পিনাররা বাড়তি কোন সুবিধা পাবে না।’


এদিকে মেলবোর্নের আকাশে কদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। নক-আউট পর্ব হওয়ায় বৃষ্টিকে নিয়েও ভাবতে হচ্ছে দুই দলকে। তবে হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন বৃষ্টিকে নিয়ে এখনই কোন চিন্তা করছে না বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার-ফাইনালে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন ইংল্যান্ডের ইয়ান গোল্ড ও পাকিস্তানের আলিম দার।


বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হবে ম্যাচ। বিশ্বকাপে এর আগে ভারত ও বাংলাদেশ দুবার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দল একটি করে ম্যাচে জয়ের স্বাদ নেয়। ২০০৭ সালে প্রথম মুখোমুখিতে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে দেয় সাত উইকেটে। এরপর ২০১১ সালে ভারত বাংলাদেশকে ৮৭ রানে পরাজিত করে।






এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ…



মেলবোর্নে ‘পরিচিত’ উইকেট পাচ্ছে বাংলাদেশ

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন



নিজস্ব প্রতিবেদক :
আজ ১৭ মার্চ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনটিতে গোপালগঞ্জের মধুমতি-বাইগার নদীর তীরে ছায়াঢাকা-পাখিডাকা গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এই মহানায়ক। জাতি দিনটিকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে উদযাপন করবে। দিবসটি আজ পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। আজ সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।


বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো তিনি কারাবরণ করেন। ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তত্কালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন তিনি। ওই সময় থেকে নিজেকে ছাত্র-যুব নেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন। বঙ্গবন্ধু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সামরিক শাসনবিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির অধিকার আদায়ের এসব আন্দোলনের কারণে বারবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়।


১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাঁকে। আওয়ামী লীগপ্রধান হিসেবে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন তথা বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে তাঁদের কারাগারে পাঠান। ঊনসত্তরের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু’র মর্যাদায় অভিসিক্ত করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ; কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্ত পর্বে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেন।


এ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মার্চে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চ তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বজ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ভাষণে সেদিন স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দেন তিনি। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমণ্ডিস্থ বাসভবন থেকে আটক করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ শহীদের আত্মদান এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বীর বাঙালি একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।


১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। সদ্য স্বাধীন দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনি জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ১৫ আগস্টের কালরাতে নিজ বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন তিনি।
জাতির জনকের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তাঁরা জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শপথ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।


সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় শিশু দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেওয়ার পর বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। বিকেলে তিনি এখানে বইমেলার উদ্বোধন করবেন।


এ ছাড়াও জাতীয়ভাবে দিনটি পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। সারাদেশে সব জেলা ও উপজেলা সদরে শিশু সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব জেলা-উপজেলা সদরে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

নাশকতায় দগ্ধরা বাড়ি ফিরছেন অনিশ্চয়তা নিয়ে


গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার বাসিন্দা জমির গত ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে

একটি বাসে অগ্নিদগ্ধ হন। সেদিন থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন

তিনি।


বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জমিরের পা থেকে চামড়া নিয়ে দু’হাতে এবং

মাথার ঠিক মাঝখানে প্রায় পুরোটা পুড়ে যাওয়া অংশে জোড়া দেওয়া হয়েছে।


সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও চোখের চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহ

পর আবার বার্ন ইউনিটে দেখা করতে বলা হয়েছে তাকে।


দুই ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা জমির আলী জানেন না বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর কিভাবে

সংসার চলবে। বড় ছেলে পরিবহনকর্মী হিসেবে কাজ করলেও গত প্রায় দুই মাস বাবার সঙ্গেই কেটেছে

তার।


জমির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকারের দেওয়া চেকের কয়েক হাজার

টাকা দিয়ে এই ক’দিন চলেছে কোনোমতে।


“বাইরে থেকেও অনেকে দেখতে এসে সাহায্য করে গেছে কিছু টাকা দিয়ে। এসব দিয়েই

চলছে এখনও।”


জমির আলী বাড়ি ফিরতে পারলেও বগুড়ার আসবাবপত্রের ব্যবসায়ী সাজু মিয়া কবে

বাড়ি ফিরতে পারবেন, তার কোনো ঠিক নেই।


বগুড়ার সদরের মোকামতলার বাসিন্দা সাজুও হাসপাতালে আছেন ২৩ জানুয়ারি থেকে।

বগুড়া থেকে নড়াইল যাওয়ার পথে অগ্নিদগ্ধ হন তিন মেয়ের বাবা সাজু মিয়া।


তারও পা থেকে চামড়া নিয়ে দুই হাতে লাগানো হলেও এখনো বুকের পুরোটাই ব্যান্ডেজে

মোড়া, চামড়া লাগানো বাকি। পুড়েছে মুখের বেশ খানিকটা অংশও।


সাজুর সঙ্গে আছেন তার মা সাজেদা ও স্ত্রী শাহনাজ। শাহনাজ জানালেন, তিন

মেয়েকে বাড়িতে রেখে গত প্রায় দুই মাস ধরে স্বামীকে নিয়ে আছেন এখানে শাহনাজ। সংসারের

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার স্বামী সাজুই।


“বাড়ি যেতে এক হাজার টাকা লাগে, আসতে আবার এক হাজার টাকা লাগে। ক্যামনে

যাব? সরকারের দেওয়া চেকের টাকায় কোনোমতে চলছে ক’দিন ধরে। এরপর কিভাবে চলবে জানি না।”


চোখের পানি মুছতে মুছতে সাজুর মা সাজেদা বলেন, “ঋণ করে ব্যবসা করে আমার

ছেলে। এখানে আসার পর থেকে কিস্তির টাকা বাকি পড়ে আছে। কী করব, বুঝি না।”


গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতাল শুরুর পর সড়কে গাড়ি পোড়ানো

ও পেট্রোল বোমা ছোড়া শুরু হলে বার্ন ইউনিটে বাড়তে থাকে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা।


তবে এসব রোগীদের প্রত্যেকের অবস্থাই উন্নতির দিকে বলে জানালেন ‘হরতাল ভিকটিম’দের

ওয়ার্ডের ইন-চার্জ নার্স মোরশেদা খানম। সপ্তাহখানেক ধরে নতুন কোনো রোগী আসেনি বলেও

জানান তিনি।


“আগে অনেক রোগীই মুখে খেতে পারত না, নল দিয়ে খাবার দিতে হত। এখন এখানে

থাকা রোগীদের সবাই মুখ দিয়ে খেতে পারছে।”


বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে আসা ১৬৯ জন রোগীর প্রায় ৯৫ শতাংশ রোগীই অবস্থাই

উন্নতির দিকে। বাকিরাও ধীরে ধীরে রিকভার করছেন।”


বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ জন আছেন, যারা নাশকতার স্বীকার হয়ে হাসপাতালে এসেছেন।


নতুন করে কারো অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই জানিয়ে ডা. পার্থ শংকর বলেন,

“পোড়া ঘা থেকে নতুন করে বড় ধরনের কোনো অসুবিধা হওয়ার মতো কোনো কারণ এখন আর নেই।”




নাশকতায় দগ্ধরা বাড়ি ফিরছেন অনিশ্চয়তা নিয়ে

বিশ্বকাপের পাঁচ সত্য


শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, মনে রাখার মতো হয়েছে অনেক কিছুই। এর মধ্যে কয়েকটি সত্য হয়তো জয়-পরাজয়ের আড়ালে চলে যেতে পারে। নকআউট পর্ব শুরুর আগে সেগুলোর দিকেই একটু চোখ বোলানো যাক—


 


বাঁহাতিদেরবিশ্বকাপ


২৩ বছর আগে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ ফাইনালে জিতিয়েছিলেন ওয়াসিম আকরাম। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ মানেই যেন বাঁহাতি পেসারদের জয়জয়কার! এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া প্রথম দুজনই বাঁহাতি—মিচেল স্টার্ক ও ট্রেন্ট বোল্ট। মাত্র ৮.৫ গড়ে স্টার্ক নিয়েছেন ১৬ উইকেট, ১৫.৬০ গড়ে বোল্টের উইকেট ১৫টি। পিছিয়ে নেই পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজও—২২.৪২ গড়ে নিয়েছেন ১৪ উইকেট।


 


আক্রমণইদর্শন


রানপ্রসবা এই বিশ্বকাপ বোলারদের জন্য যেন দুঃস্বপ্ন। বৃত্তের বাইরে চারজন ফিল্ডার নিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে অধিনায়কদের। তবুও আক্রমণের সঙ্গে আপস করেননি কেউ কেউ। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ম্যাককালাম-ক্লার্ক মিলে আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্বের দারুণ একটা প্রদর্শনী দেখিয়েছেন। ঝলক দেখিয়েছেন ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনিও, বোলারদের কাছ থেকে বের করে আনছেন তাঁদের সেরাটা।


 


ভারত-বসন্ত


যে দলটাকে বিশ্বকাপের আগে বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছিলেন কেউ কেউ, তারাই এখন শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। বিশ্বকাপের আগে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলে ভারত জয় পায়নি একটা ম্যাচেও, অথচ এরপর টানা ছয় ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পা রেখেছে পরের পর্বে। নিজেদের ফিরে পাওয়ার এর চেয়ে ভালো সময় ধোনিদের আর হতে পারত না!


 


নন্দনেমন্দা


নামেই শুধু নন্দনকানন, অকল্যান্ডের ইডেন পার্ক কিন্তু ব্যাটসম্যানদের জন্য বিভীষিকা। মাঠের সোজাসুজি সীমানা মাত্র ৫৫ মিটার, রানের ফুলঝুরি ছোটার কথা। অথচ এই মাঠেই হয়েছে লো-স্কোরিং কয়েকটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। ১৫১ রানে অলআউট হয়েও অস্ট্রেলিয়া তো নিউজিল্যান্ডকে কাঁপিয়েই দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত হার ১ উইকেটে। রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচও।


 


আঁধারথেকেআলোয়


আইসিসির ‘১০ দলের’ বিশ্বকাপের ধারণাকে টুর্নামেন্টের শুরুতেই সজোরে একটা চড় মেরেছে আয়ারল্যান্ড। প্রথমেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমকে দেওয়ার পর আরেক টেস্ট খেলুড়ে দেশ জিম্বাবুয়েকেও হারিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য উঠতে পারেনি শেষ আটে। তবে আইসিসিকে বার্তাটা ঠিকই দিয়েছে। আফগানিস্তান, আরব আমিরাত, স্কটল্যান্ড বড় কিছু করতে না পারলেও মাঝেমধ্যেই ঝলক দেখিয়েছে। এএফপি।




বিশ্বকাপের পাঁচ সত্য

চট্টগ্রামে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে আগুন






প্রকাশ : ১৭ মার্চ, ২০১৫ ০২:৩৩:৪৩অ-অ+
printer


চট্টগ্রামে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে আগুন


চট্টগ্রামে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে আগুনদেশি বার্তা ডটকম,চট্টগ্রাম: নগরীর খুলশী থানার দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে পার্ক করে রাখা গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার রাত ১১ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।


খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চক্রবর্তী শীর্ষ নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


শীর্ষ নিউজডটকম/প্রতিনিধি/আল-আমিন


১৭ মার্চ ২০১৫


 





চট্টগ্রামে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে আগুন

ফুলবাড়িয়ায় আ’লীগ ক্যাডারদের মধ্যযুগীয় পৈশাচিক বর্বরতা



মার্চ ১৭



পূর্বাহ্ন ০১:১৪
মঙ্গলবার ২০১৫





1নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মামা ভাগ্নে মিলে বেড়াতে আসে শ্বশুর বাড়িতে। ভাগ্নে মনির হোসেনকে স্থানীয় আশরাফ আলীর একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ নিয়ে দেয় মামা দুলাল হোসেন। যেদিন কাজ নিয়ে দেয় সে রাতেই মালিকের বাড়ি থেকে ডিস্কোবার ১২৫ সিসি একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে লিচু গাছে ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় দিনভর নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, প্লাস দিয়ে টেনে টেনে জামাই দুলাল মিয়ার পায়ের নখ উপড়ে ফেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা পিচ্চি সুমন ও জালাল উদ্দিন উরফে শুদ্ধ জালাল। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও গ্রামে। ঘটনাটি নিয়ে একটি মহল বিএনপি নেতা স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার ও তার ছোট ভাই উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ূম তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, কাহালগাঁও গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে শেফালীর স্বামী ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় গ্রামের দুলাল মিয়া ও তার ভাগ্নে মনির হোসেন গত মঙ্গলবার কাহালগাঁও গ্রামে বেড়াতে আসেন। জামাই দুলাল মিয়া একই গ্রামের আশরাফ আলীর বাড়িতে পোল্ট্রি ফার্মে কাজ নিয়ে দেন তার ভাগ্নে মনির হোসেনকে । ঐরাতে আশরাফ আলীর বাড়িতে থাকেন মামা ও ভাগ্নে। রাতে যে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল তাদের চৌকির পাশেই ছিল আশারাফ আলীর পুত্র মনিরুজ্জামান বাদলের ডিস্কোবার ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলটি। ঘরের বাইরে থেকে চৌকির একহাত দূর দিয়ে সিঁধকাটা। সকালে বাড়ির লোকজনদের জামাই দুলাল মিয়া ও ভাগ্নে মনির হোসেন জানায়, চোরেরা সিঁধকেটে মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে গেছে। বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয় মোটরসাইকেল চুরির সাথে তারাই জড়িত। এ ঘটনায় দুলাল মিয়া ও মনির হোসেনকে বুধবার সরাদিন অমানুষিক নিষ্ঠুরভাবে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন করেন পিচ্চি সুমন ও শুদ্ধ জালালসহ স্থানীয় ১০/১৫ জন। এক পর্যায়ে অর্ধশত লোকজনের উপস্থিতিতে জামাই দুলাল মিয়াকে বাড়ির পাশে লিচু গাছে ঝুলিয়ে ব্যাপক মারপিট করে প্লাস দিয়ে উপড়ে ফেলে তার পায়ের তিনটি নখ। মুমূর্ষু অবস্থায় রাতে আহত দুলাল মিয়া ও মনির হোসেনকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে একাধিক লোকজন বলেন, এভাবে মানুষকে কোনো মানুষ নির্যাতন করতে পারে না। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের ঘটনা শুনে এগিয়ে গেলে শুদ্ধ জালাল অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে বলেন, ‘মোড়ল বাড়ির বিচার, মোড়ল বাড়ির মানুষই করতে পারে’ কোনো নেতা বা মাতাব্বরের টাইম নাই। যে কারণে এলাকার গণ্যমান ব্যক্তিরা এগিয়ে যায়নি। ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদারকে জানালে তিনি তাদেরকে মারপিট করতে নিষেধ করে অভিভাবকদের খবর দিতে বলেন।
নির্যাতনের শিকার দুলালের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুলাল তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী শেফালীকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন। স্ত্রীর পাঠানো টাকা দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেশ কয়েক কাঠা জমি কেনেন দুলাল। সেই জমি আত্মসাত করার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন গত বুধবার দুলালকে একটি মোটর সাইকেল চুরির অপবাদ দিয়ে আশরাফ আলীর বাড়ির একটি লিচু গাছে ঝুলিয়ে দিনভর নির্যাতন করেন যুবলীগ নেতা পিচ্চি সুমন, আশরাফ আলী, জালাল ও আব্দুল মান্নানসহ ১০/১৫ জন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চুরির বিষয়টি শোনার পর তাদের অভিভাবকদের খবর দিতে বলেছিলাম বাড়ির লোকজনদের। এরপর আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আর আমিও ব্যস্ত ছিলাম আমার ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের উপনির্বাচন হলো ১৯ মার্চ। ঐদিন ভোটকেন্দ্র দেখতে আসেন নির্বাচন অফিসের লোকজন। তিনি আরও বলেন, আমিসহ আমার ছোট ভাই উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ূম তালুকদারের বিরুদ্ধে একটি মহল ঘটনাটি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় নির্যাতিত মনিরের পিতা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আশরাফ আলী, সুমন, জালাল, মান্নান, মানিক, রিয়াজসহ এজাহার নামীয় ১০ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শ্যালক ও পুত্রকে মারপিট করার অভিযোগে শুক্রবার ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল খায়ের জানান, ঘটনার সাথে জড়িত রিয়াজ নামের একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।




ফুলবাড়িয়ায় আ’লীগ ক্যাডারদের মধ্যযুগীয় পৈশাচিক বর্বরতা

মেলবোর্নে বাংলাদেশ পাচ্ছে পরিচিত উইকেট


pitc
স্পোর্টস ডেস্ক
দেশি বার্তা:


গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল। সেদিন এমসিজিতে বাংলাদেশ যেই উইকেটে খেলেছিল, ভারতের বিপক্ষে একই উইকেটে খেলবে!


বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে এমনটিই ধারণা দিয়েছেন। সোমবার এমসিজিতে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেই উইকেটে আমরা খেলেছি, সেই উইকেটে ১৯ মার্চের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উইকেট থেকে স্পিনাররা বাড়তি কোনো সুবিধা পাবে না।’


এদিকে মেলবোর্নের আকাশে কদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। নক-আউট পর্ব হওয়ায় বৃষ্টিকে নিয়েও ভাবতে হচ্ছে দুই দলকে। তবে হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন, বৃষ্টিকে নিয়ে এখনই কোনো চিন্তা করছে না বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন ইংল্যান্ডের ইয়ান গোল্ড ও পাকিস্তানের আলিম দার।


বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে ম্যাচ। বিশ্বকাপে এর আগে ভারত ও বাংলাদেশ দুবার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দল একটি করে ম্যাচে জয়ের স্বাদ নেয়। ২০০৭ সালে প্রথম মুখোমুখিতে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে দেয় ৫ উইকেটে। এরপর ২০১১ সালে ভারত বাংলাদেশকে ৮৭ রানে পরাজিত করে।


এফ এ আরিফ




মেলবোর্নে বাংলাদেশ পাচ্ছে পরিচিত উইকেট

সারাদেশে ২৬৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন



সারাদেশে ২৬৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতালে ঢাকাসহ সারাদেশে নাশকতা এড়াতে ২৬৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় বিজিবির সদরদপ্তর থেকে এক তথ্য জানানো হয়।


জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীতে ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৬ প্লাটুন সকাল থেকে ঢাকা শহরে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।


এছাড়া, দেশের বিভিন্নস্থানে মঙ্গলবার সকাল থেকে ২৪ ঘন্টার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ১৪২ প্লাটুন এবং মহাসড়কের নিরাপত্তার দায়িত্বে ১১১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। আরও ৬৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য সারাদেশে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে সদরদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।


এসআর/এইচজে




সারাদেশে ২৬৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বিলবোর্ড দখল


জাতীয় প্রেস ক্লাব ও শিক্ষা ভবনের মধ্যকার মোড়ে কদম ফোয়ারার দক্ষিণে চারটি বাঁশের খুঁটির ওপর নড়বড়ে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকৃতির দুটি রঙিন বিলবোর্ড। তাতে শোভা পাচ্ছে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের স্মিতহাসির ছবি। সে সঙ্গে রয়েছে লাল-সবুজের তারকাখচিত আওয়ামী লীগের একটি পতাকা। ওপরের এক কোণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এরই মধ্যে সাদা রঙে লেখা ‘জনগণই আমার শক্তি’- হাজি মো. সেলিম, সংসদ সদস্য, ঢাকা-৭, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। প্রচারে এলাকাবাসী।


দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না, বাঁশের খুঁটির ওপর নির্মিত এই বিলবোর্ড দুটি সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও (ডিএসসিসি) খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে হাজি মো. সেলিম সমকালকে বলেন, সিটি করপোরেশন বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনি বিলবোর্ড ভাড়া নেননি। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার নামে কারা বিলবোর্ড লাগিয়েছে, সেটাও তিনি জানেন না।


কেবল হাজি মো. সেলিমেরই নয়, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এখন বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে প্রার্থীদের প্রচারণায় সয়লাব হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা। ঢাকার অনেক স্থানে এখন শোভা পাচ্ছে মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন ও আনিসুল হকের নামে স্থাপিত বিলবোর্ড। উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী থেকে রামপুরার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যানার-বিলবোর্ডের মাধ্যমে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নানা স্লোগান ও নানা চেহারার ছবি দিয়ে চলছে দলীয় ও নগরবাসীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা।


ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিবছর জুলাই-জুন মাসের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিলবোর্ড তৈরির অনুমতি নেয়। ওই সব প্রতিষ্ঠান বিলবোর্ড তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন মেয়াদে ভাড়া দেয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রার্থীরা বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে সেগুলো ভাড়া না নিয়েই তাদের প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছেন। প্রচারে এলাকাবাসী, আমরা ঢাকা, ওয়ার্ডবাসী, ঢাকাবাসী, ওয়ার্ড সভাপতি_ এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করলেও আদতে প্রার্থীদের উদ্যোগে বা সম্মতিতেই সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রার্থীই ভবিষ্যতে মেয়র বা কাউন্সিলর হবেন, কাজেই বাধা দিলে ভবিষ্যতে ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে পড়ার ভয়ে তারাও কিছু বলছেন না। কারণ, ভবিষ্যতে বিলবোর্ডের অনুমোদন নিতে হলে তাকে সিটি করপোরেশনেই যেতে হবে; বরং তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই স্বল্প সময়ের জন্য কোনো ঝামেলায় যেতে চাইছেন না। আর প্রার্থীরা বলছেন, এসব বিলবোর্ড তারা লাগাননি। কে লাগিয়েছে, তা-ও তারা জানেন না। তাদের ধারণা, সমর্থক বা দলীয় কর্মীরা এ কাজ করে থাকতে পারেন।


বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ আউটডোর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নেপচুন অ্যাড-এর মালিক রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, যারা ঢাকা শহরের অভিভাবক হবেন, তারা এমনভাবে বিলবোর্ড দখল করবেন, এটা তিনি বিশ্বাস করতে চান না। তার কয়টা দখল হয়েছে, সেটাও তিনি বলতে রাজি নন।


তবে সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘এর আগে ঢাকা মহানগর যুবলীগের সম্মেলনের সময় একই ঘটনা ঘটেছিল। এবারও বিলবোর্ডগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা কাউকে জিজ্ঞাসা করেননি। ভাড়া নেওয়া দূরের কথা, এ নিয়ে বহুবার বহু জায়গায় বলেছি। কোনো সুরাহা হয়নি। কাজেই যেটার কোনো সমাধান নেই, সেটা বলে লাভ কী। অথচ আমার বিলবোর্ড দখল করে নেওয়ায় একজন ক্লায়েন্ট তাদের পারচেজ অর্ডার ক্যানসেল করার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু আমার করার কিছু নেই। এর আগে একবার সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। কিন্তু এখন তো আমরা অসহায়।’


আরেক বিলবোর্ড ব্যবসায়ী বন্ধু মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী কাজী মাহবুব আলম সমকালকে বলেন, ‘আমার ছয়টা বিলবোর্ড তারা দখল করেছে। এর মধ্যে কোনোটাই আমার কাছ থেকে ভাড়া নেয়নি। কোনো কিছু জিজ্ঞাসাও করেনি। নাগরিক কমিটি, না কোন কমিটি লাগিয়েছে। সেই নাগরিক কমিটির লোকজনকেও তো চিনি না। তাহলে যাব কার কাছে? এখন নীরবে সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, রাজধানীতে অসংখ্য অনুমোদনহীন বিলবোর্ড রয়েছে। ওই সব বিলবোর্ডও অনেক প্রার্থী দখল করে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনুমোদনহীন বিলবোর্ড চেনারও একটি উপায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈধ বিলবোর্ডের খুঁটিতে বা এক কোণে ওই বিলবোর্ডের অনুমোদনের একটি স্মারক নম্বর হলুদ রঙে উল্লেখ করা থাকে। যেটাতে স্মারক নম্বরের উল্লেখ নেই, সেটাই অবৈধ।


সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর হেয়ার রোডে ফুটপাতের ওপরে বিলবোর্ডে একটি শিশুকে আদর করা অবস্থায় প্রার্থী সাঈদ খোকনের ছবি। সেখানে লেখা, ‘আসুন, শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়ক নগরী গড়ে তুলি।’ নিচে লেখা- সাঈদ খোকন। জনতার প্রার্থী, আপনার প্রার্থী। প্রচারে সুনাগরিক। কিন্তু এই সুনাগরিক সংগঠনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ওই বিলবোর্ডের কোথাও স্মারক নম্বরও নেই।


এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন সমকালকে বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকরা লাগিয়ে থাকতে পারে। যারা নির্বাচন করেন, তাদের পক্ষে অনেক মানুষ কাজ করেন। কোন সমর্থক বা শুভানুধ্যায়ী এসব বিলবোর্ড লাগিয়েছে, তা জানি না। তবে যদি আইন ভঙ্গ করে বা দখল করে এগুলো লাগানো হয়ে থাকে, তাহলে তাদের প্রতি অনুরোধ করব, বিলবোর্ডগুলো যেন তারা নামিয়ে ফেলেন। এ ছাড়া আমার করণীয় কিছু নেই।’


একাধিক বিলবোর্ড ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশেষ করে যেসব বিলবোর্ড খালি অবস্থায় আছে, সেগুলোই দখলের কবলে পড়ছে বেশি। হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে, সেখানে একজন প্রার্থীর ছবিসংবলিত প্রচারণা। এ রকমই একটা বিলবোর্ড দেখা গেছে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১১ নম্বরের দিকে এগোতেই ফুটপাতে। সেখানে কামাল মজুমদারের মধ্য বয়সের ছবি দিয়ে লেখা, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ মজুমদারকে মেয়র পদে দেখতে চাই। সৌজন্যে ঢাকা উত্তর নগরবাসী।’ এ ব্যাপারে ফোনে একাধিকবার কামাল মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


রাজধানীর সোনারগাঁ মোড়ে দেখা গেছে, একটি বিলবোর্ডে জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলনের ছবিসংবলিত নগরবাসীর প্রতি তার আহ্বান, ‘নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন। কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে খারাপ লোককে ভোট দেবেন না।’ স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগেও ওই বিলবোর্ডটিতে বিএসআরএম এক্সট্রিম নামের একটি রড কোম্পানির বিজ্ঞাপন শোভা পাচ্ছিল। হঠাৎ করেই সেখানে মিলনের ছবি ভেসে উঠেছে।


এ প্রসঙ্গে হাজি সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন সমকালকে বলেন, তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকেও কোনো বিলবোর্ড ভাড়া নেননি। কে তার নামে বিলবোর্ড লাগিয়েছে, তা তিনি জানেন না। তার দলের পক্ষে প্রচারণা চালানো ব্যক্তিরা লাগিয়ে থাকতে পারে। সেটা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, তারা ভাড়া নিয়ে লাগিয়েছে কি-না। ভাড়া না নিলে তিনি নিজেই সেটা নামানোর ব্যবস্থা করবেন।


রাজধানীর কালশীতে মিরপুর বাইপাসের সংযোগস্থলে দেখা গেছে আনুমানিক ২০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের একটি বিলবোর্ডে সাবেক ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হকের ছবি। তাতে লেখা, ‘বায়ুদূষণে বছরে মারা যায় ১৫ হাজার মানুষ। ড্রেন নেই ঢাকার ৬০ ভাগ এলাকায়। পরিবেশদূষণ সমস্যা চিহ্নিত। এবার সমাধানের যাত্রা। আনিসুল হককে মেয়র নির্বাচনে সমর্থন দিন।’ নিচে লেখা ‘আমরা ঢাকা’। স্থানীয়রা জানান, ওই বিলবোর্ডটি অনেক দিন ধরেই খালি ছিল। সেখানে এটা লাগানো হয়েছে। কিন্তু এমন দুর্বলভাবে লাগানো হয়েছে, একটু ঝড়োবাতাস হলেই সেটি খুলে পড়তে পারে। এ ছাড়া এয়ারপোর্ট রোডের প্রায় সর্বত্রই দেখা গেল, সড়ক বিভাজকের সড়কবাতির খুঁটিতে ‘আমরা ঢাকা’র ব্যানারে অসংখ্য ফেস্টুন। প্রতিটিতেই লেখা, ‘আনিসুল হককে মেয়র নির্বাচনে সমর্থন দিন।’


প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক সমকালকে বলেন, আনিসুল হকের পক্ষ থেকে ডিএনসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। জানিয়েছিলেন, কিছু বিলবোর্ড তিনি ভাড়া নিতে চান। বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এর পর আর তিনি যোগাযোগ করেননি।’ এ প্রসঙ্গে আনিসুল হক সমকালকে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী। এ জন্য অনেকেই তাকে বিনা ভাড়ায় বিলবোর্ড দিতে চেয়েছেন। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের কোনো অভিযোগ না থাকলে মিডিয়ারও এ বিষয়ে অভিযোগ থাকার কথা নয়। কতগুলো বিলবোর্ড কত টাকায় ভাড়া নিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকার পরিমাণ মূল বিষয় নয়। পাঁচ টাকা হলেও তাদের দিয়েছি।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান সমকালকে বলেন, অনুমোদিত বিলবোর্ডে কে কী প্রচারণা চালাল, সেটা দেখার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের নয়। তবে অবৈধ বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুন উচ্ছেদ অভিযান দ্রুতই তারা শুরু করবেন।




বিলবোর্ড দখল

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন


সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -ফাইল ছবি

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -ফাইল ছবি



পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম লৌহমানব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি তিনি। ভালোবেসে বাঙলার মানুষ তাকে উপাধি দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’। আজ সেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু।
আজ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ শুধু বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নয়, একইসঙ্গে জাতীয় শিশু দিবসও। আজ সরকারি ছুটির দিন। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন চলছে। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতার জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা আজ টুঙ্গীপাড়ায় যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। আওয়ামী লীগ আজ দেশব্যাপী উদ্বেলিত কর্মসূচি পালন করছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জাতির জনকের শুভ জন্মদিন উদযাপন করছে।
এক নজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের এই দিনে টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান ও মাতার নাম সায়েরা খাতুন। পিতামাতার চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয়। খোকা নামের সেই শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালির ত্রাতা ও মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধের কারণে পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। এক রাজনৈতিক সংগ্রামবহুল জীবনের অধিকারী এই নেতা বিশ্ব ইতিহাসে ঠাঁই করে নেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এ দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি ‘শেখ মুজিব’ এবং ‘শেখ সাহেব’ নামে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন ছাত্রনেতা। ক্রমে তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃত্বের উচ্চপদে আসীন হয়েছিলেন। তার বড় গুণ ছিল তুখোড় বক্তৃতা প্রদানের ক্ষমতা। সমাজতন্ত্রের পক্ষ সমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একসময় ছয় দফা স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন যাকে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রধান ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন, যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ সালে ভারত সরকারের সাথে ‘যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে তার বিচার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। অথচ তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ার পর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা পরিচালনা করে। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। রহিমুদ্দিন খান সামরিক আদালতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে, তবে তা কার্যকর হয়নি। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। পরের বছরের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি :
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সকাল সাতটায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন নেতারা।
দলের সাধারণ সম্পাদক ও স’ানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সকল শাখার নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে আহবান জানিয়েছেন।
টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় শিশু দিবস সফল করতে সব ধরনের প্রস’তি শেষ। এ উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস’া।
সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। তারা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
বেলা পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের পাবলিক প্লাজায় শিশু সমাবেশ ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন। এরপর একই স’ানে বইমেলার উদ্বোধন করবেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধু ভবনে নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্ন বিরতি করবেন। বেলা তিনটায় তিনি টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।




আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন