মার্চ ১৭
পূর্বাহ্ন ০১:১৪
মঙ্গলবার ২০১৫
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মামা ভাগ্নে মিলে বেড়াতে আসে শ্বশুর বাড়িতে। ভাগ্নে মনির হোসেনকে স্থানীয় আশরাফ আলীর একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ নিয়ে দেয় মামা দুলাল হোসেন। যেদিন কাজ নিয়ে দেয় সে রাতেই মালিকের বাড়ি থেকে ডিস্কোবার ১২৫ সিসি একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে লিচু গাছে ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় দিনভর নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, প্লাস দিয়ে টেনে টেনে জামাই দুলাল মিয়ার পায়ের নখ উপড়ে ফেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা পিচ্চি সুমন ও জালাল উদ্দিন উরফে শুদ্ধ জালাল। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও গ্রামে। ঘটনাটি নিয়ে একটি মহল বিএনপি নেতা স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার ও তার ছোট ভাই উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ূম তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, কাহালগাঁও গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে শেফালীর স্বামী ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় গ্রামের দুলাল মিয়া ও তার ভাগ্নে মনির হোসেন গত মঙ্গলবার কাহালগাঁও গ্রামে বেড়াতে আসেন। জামাই দুলাল মিয়া একই গ্রামের আশরাফ আলীর বাড়িতে পোল্ট্রি ফার্মে কাজ নিয়ে দেন তার ভাগ্নে মনির হোসেনকে । ঐরাতে আশরাফ আলীর বাড়িতে থাকেন মামা ও ভাগ্নে। রাতে যে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল তাদের চৌকির পাশেই ছিল আশারাফ আলীর পুত্র মনিরুজ্জামান বাদলের ডিস্কোবার ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলটি। ঘরের বাইরে থেকে চৌকির একহাত দূর দিয়ে সিঁধকাটা। সকালে বাড়ির লোকজনদের জামাই দুলাল মিয়া ও ভাগ্নে মনির হোসেন জানায়, চোরেরা সিঁধকেটে মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে গেছে। বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয় মোটরসাইকেল চুরির সাথে তারাই জড়িত। এ ঘটনায় দুলাল মিয়া ও মনির হোসেনকে বুধবার সরাদিন অমানুষিক নিষ্ঠুরভাবে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন করেন পিচ্চি সুমন ও শুদ্ধ জালালসহ স্থানীয় ১০/১৫ জন। এক পর্যায়ে অর্ধশত লোকজনের উপস্থিতিতে জামাই দুলাল মিয়াকে বাড়ির পাশে লিচু গাছে ঝুলিয়ে ব্যাপক মারপিট করে প্লাস দিয়ে উপড়ে ফেলে তার পায়ের তিনটি নখ। মুমূর্ষু অবস্থায় রাতে আহত দুলাল মিয়া ও মনির হোসেনকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে একাধিক লোকজন বলেন, এভাবে মানুষকে কোনো মানুষ নির্যাতন করতে পারে না। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের ঘটনা শুনে এগিয়ে গেলে শুদ্ধ জালাল অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে বলেন, ‘মোড়ল বাড়ির বিচার, মোড়ল বাড়ির মানুষই করতে পারে’ কোনো নেতা বা মাতাব্বরের টাইম নাই। যে কারণে এলাকার গণ্যমান ব্যক্তিরা এগিয়ে যায়নি। ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদারকে জানালে তিনি তাদেরকে মারপিট করতে নিষেধ করে অভিভাবকদের খবর দিতে বলেন।
নির্যাতনের শিকার দুলালের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুলাল তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী শেফালীকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন। স্ত্রীর পাঠানো টাকা দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেশ কয়েক কাঠা জমি কেনেন দুলাল। সেই জমি আত্মসাত করার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন গত বুধবার দুলালকে একটি মোটর সাইকেল চুরির অপবাদ দিয়ে আশরাফ আলীর বাড়ির একটি লিচু গাছে ঝুলিয়ে দিনভর নির্যাতন করেন যুবলীগ নেতা পিচ্চি সুমন, আশরাফ আলী, জালাল ও আব্দুল মান্নানসহ ১০/১৫ জন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চুরির বিষয়টি শোনার পর তাদের অভিভাবকদের খবর দিতে বলেছিলাম বাড়ির লোকজনদের। এরপর আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আর আমিও ব্যস্ত ছিলাম আমার ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের উপনির্বাচন হলো ১৯ মার্চ। ঐদিন ভোটকেন্দ্র দেখতে আসেন নির্বাচন অফিসের লোকজন। তিনি আরও বলেন, আমিসহ আমার ছোট ভাই উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ূম তালুকদারের বিরুদ্ধে একটি মহল ঘটনাটি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় নির্যাতিত মনিরের পিতা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আশরাফ আলী, সুমন, জালাল, মান্নান, মানিক, রিয়াজসহ এজাহার নামীয় ১০ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শ্যালক ও পুত্রকে মারপিট করার অভিযোগে শুক্রবার ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল খায়ের জানান, ঘটনার সাথে জড়িত রিয়াজ নামের একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
ফুলবাড়িয়ায় আ’লীগ ক্যাডারদের মধ্যযুগীয় পৈশাচিক বর্বরতা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন