দেশি বার্তা - ২৪ ঘন্টা দেশের খবর

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

২৫০০ কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতি মামলার তদন্ত শুরু হচ্ছে


দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা প্রতিদিন ডকটম:
অবশেষে রাজধানীর গুলশান এলাকার কড়াইল মৌজায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু  করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


সম্প্রতি কমিশন এ মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে বর্তমানে উপ-পরিচালক আখতার হামিদ ভুইয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।


জানা যায়, ২০১১ সালের ২ নভেম্বর  দুদকের তৎকালিন উপ-পরিচালক আব্দুল আজিজ ভুইয়া বাদী হয়ে রাজধানীর কড়াইল মৌজায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে  গুলশান মডেল থানায় মামলা (নং-৭) করেন।


ওই মামলায় আসামি করা হয়, সাব-রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিন, কথিত মালিক নাজমা বেগম, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বি এম ইউসুফ আলী, ব্রোকার আলী আকবর খান,  হোসাইন মামুন, রিচি অটোমোবাইল ও লেক্সাস ভিশনের মালিক মনজুর আহমদ,  গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ  এবং বাচ্চু মিয়া গং।


দুদক সূত্র মতে, গুলশান এলাকার কড়াইল মৌজার  ৬৫ খতিয়ান ভুক্ত ৫০১, ৫০২ ও ৫০৩ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ৬৭ একর জমির (৪০৪ দশমিক ৫৮ কাঠা) মালিক বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিঃ (বিটিসিএল)। অর্থাৎ  ওই জমির মালিক বাংলাদেশ সরকার।


কিন্তু ওই জালিয়াত চক্র দুদকের দায়ের করা মামলার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ক্রিমিনাল মিসেলিনিয়াস পিটিশন (নং-৮০৪৪/২০১২) দায়ের করে। তাদের পিটিশনের উপর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ দুদকের ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিতাদেশ দেন।


আর ওই স্থগিতাদেশের ফলে  ২ বছরের অধিক মামলার তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে।শুধু তাই নয় দুদকও  রহস্যজনক কারণে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি ।


জানা যায়, জেলা প্রশাসকের দফতরের তথ্য অনুযায়ী  ওই জায়গা সম্পত্তির মূল্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। আর এ মূল্যবান জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ওয়ারিশ দাঁড় করিয়ে জনৈকা নাজমা বেগমের কাছ থেকে ক্রয় দেখিয়ে রেজিষ্ট্রি করিয়ে নেয় ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’ নামে একটি কোম্পানি।


গুলশানের তৎকালিন সাব-রেজিস্ট্রার হেলালউদ্দিন  ২৯৪ কোটি টাকা  মূল্য দেখিয়ে ২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে জমিটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নামে সাফ কবলা রেজিস্ট্রি (দলিল নং- ৯৫৬০) করেন। নাজমা বেগমের অনুকূলে ৯১ কোটি টাকা পরিশোধ দেখান।
পরে আইনমন্ত্রণালয় ওই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের পর অভিযুক্ত  গুলশানের সাব রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিনকে বরখাস্ত করে।


এদিকে   ২০১২ সালের মার্চে  দুদকের কর্মকর্তারা ওই  মামলার  তদন্ত শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামিরা  হাইকোর্টে আশ্রয় নিয়ে মামলার তদন্ত বন্ধ করে দেয়।


ওই সময় তদন্ত কর্মকর্তা রেকর্ডপত্র চেয়ে আসামিদের চিঠি দিলে তারা চিঠির ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে যায়। ক্রিমিনাল মিসেলিনিয়াস পিটিশন (নং-৮০৪৪/২০১২) দিয়ে একটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে তদন্ত কার্যক্রমের ওপর এক বছরের স্থগিতাদেশ নেন।


২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারিতে নেয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি শেষ হয়। স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কমিশন।


ফলে থেমে ছিলো আলোচিত এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম। তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে মঙ্গলবার সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবিএম বায়েজিদকে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে । তিনি শিগগিরই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন জানাচ্ছেন।


একে/তোফা




২৫০০ কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতি মামলার তদন্ত শুরু হচ্ছে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন