শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, মনে রাখার মতো হয়েছে অনেক কিছুই। এর মধ্যে কয়েকটি সত্য হয়তো জয়-পরাজয়ের আড়ালে চলে যেতে পারে। নকআউট পর্ব শুরুর আগে সেগুলোর দিকেই একটু চোখ বোলানো যাক—
বাঁহাতিদেরবিশ্বকাপ
২৩ বছর আগে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ ফাইনালে জিতিয়েছিলেন ওয়াসিম আকরাম। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ মানেই যেন বাঁহাতি পেসারদের জয়জয়কার! এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া প্রথম দুজনই বাঁহাতি—মিচেল স্টার্ক ও ট্রেন্ট বোল্ট। মাত্র ৮.৫ গড়ে স্টার্ক নিয়েছেন ১৬ উইকেট, ১৫.৬০ গড়ে বোল্টের উইকেট ১৫টি। পিছিয়ে নেই পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজও—২২.৪২ গড়ে নিয়েছেন ১৪ উইকেট।
আক্রমণইদর্শন
রানপ্রসবা এই বিশ্বকাপ বোলারদের জন্য যেন দুঃস্বপ্ন। বৃত্তের বাইরে চারজন ফিল্ডার নিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে অধিনায়কদের। তবুও আক্রমণের সঙ্গে আপস করেননি কেউ কেউ। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ম্যাককালাম-ক্লার্ক মিলে আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্বের দারুণ একটা প্রদর্শনী দেখিয়েছেন। ঝলক দেখিয়েছেন ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনিও, বোলারদের কাছ থেকে বের করে আনছেন তাঁদের সেরাটা।
ভারত-বসন্ত
যে দলটাকে বিশ্বকাপের আগে বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছিলেন কেউ কেউ, তারাই এখন শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। বিশ্বকাপের আগে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলে ভারত জয় পায়নি একটা ম্যাচেও, অথচ এরপর টানা ছয় ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পা রেখেছে পরের পর্বে। নিজেদের ফিরে পাওয়ার এর চেয়ে ভালো সময় ধোনিদের আর হতে পারত না!
নন্দনেমন্দা
নামেই শুধু নন্দনকানন, অকল্যান্ডের ইডেন পার্ক কিন্তু ব্যাটসম্যানদের জন্য বিভীষিকা। মাঠের সোজাসুজি সীমানা মাত্র ৫৫ মিটার, রানের ফুলঝুরি ছোটার কথা। অথচ এই মাঠেই হয়েছে লো-স্কোরিং কয়েকটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। ১৫১ রানে অলআউট হয়েও অস্ট্রেলিয়া তো নিউজিল্যান্ডকে কাঁপিয়েই দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত হার ১ উইকেটে। রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচও।
আঁধারথেকেআলোয়
আইসিসির ‘১০ দলের’ বিশ্বকাপের ধারণাকে টুর্নামেন্টের শুরুতেই সজোরে একটা চড় মেরেছে আয়ারল্যান্ড। প্রথমেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমকে দেওয়ার পর আরেক টেস্ট খেলুড়ে দেশ জিম্বাবুয়েকেও হারিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য উঠতে পারেনি শেষ আটে। তবে আইসিসিকে বার্তাটা ঠিকই দিয়েছে। আফগানিস্তান, আরব আমিরাত, স্কটল্যান্ড বড় কিছু করতে না পারলেও মাঝেমধ্যেই ঝলক দেখিয়েছে। এএফপি।
বিশ্বকাপের পাঁচ সত্য
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন