দেশি বার্তা - ২৪ ঘন্টা দেশের খবর

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের বৈঠক; বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দৌড়ঝাঁপ করছেন ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। সমঝোতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন তারা। সবশেষ মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৬টি দেশের কূটনীতিকরা। বৈঠক শেষে, চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দেশের প্রধান দুই দলকে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ার আহবান জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক বলেছেন, এই আস্থার অভাবেই নিরাপত্তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। তাই এ দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাজনৈতিক সংঘাত কমানোর মতো আস্থা স্থাপনের প্রয়াসকে উৎসাহিত করছেন তারা। সেইসঙ্গে সব পক্ষের কাছে তাদের অভিন্ন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরছেন বলে জানান হাইকমিশনার। 
কূটনীতিকদের এমন প্রয়াসকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নুরুল আমিন ব্যাপারি। রেডিও তেহরানকে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন প্রধান দুই দলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যেসব বিষয়ে তারা কথা বলেছেন তাতে গতানুগতিক বক্তব্যই প্রকাশ পেয়েছে। বিদেশীরা হস্তক্ষেপ করছে, এমন অভিযোগ এখানে নতুন নয়, তাই কূটনীতিকরা শক্ত কিছু বলছেন না। কিন্তু এভাবে হবে না, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চাইলে তাদের আরও শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে। 
এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, ওয়ান/ইলেভেন হবে, এ ধরনের তৎপরতায় সেটা মনে করা যথার্থ নয়। কেননা সবাই চেষ্টা করছে দেশের সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে, যেমন করছে সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন ফোরাম। কেননা সংকট যে সমাধান করতে হবে সেটা কারো না বোঝার কথা নয়। 
তিনি আরও বলেন, যেহেতু প্রতিবারই ক্ষমতার পালাবদলে সংঘাত হচ্ছে, সেহেতু এ নিয়ে স্থায়ী কিছু হওয়া দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি হওয়া উচিত। তেমনিভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়েও একটা চুক্তি হতে পারে। তবে, কত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি উন্নতি হবে, সে সম্পর্কে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন এ বিশ্লেষক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন