দেশি বার্তা - ২৪ ঘন্টা দেশের খবর

সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০১৫

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন


সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -ফাইল ছবি

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -ফাইল ছবি



পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম লৌহমানব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি তিনি। ভালোবেসে বাঙলার মানুষ তাকে উপাধি দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’। আজ সেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু।
আজ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ শুধু বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নয়, একইসঙ্গে জাতীয় শিশু দিবসও। আজ সরকারি ছুটির দিন। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন চলছে। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতার জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা আজ টুঙ্গীপাড়ায় যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। আওয়ামী লীগ আজ দেশব্যাপী উদ্বেলিত কর্মসূচি পালন করছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জাতির জনকের শুভ জন্মদিন উদযাপন করছে।
এক নজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের এই দিনে টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান ও মাতার নাম সায়েরা খাতুন। পিতামাতার চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয়। খোকা নামের সেই শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালির ত্রাতা ও মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধের কারণে পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। এক রাজনৈতিক সংগ্রামবহুল জীবনের অধিকারী এই নেতা বিশ্ব ইতিহাসে ঠাঁই করে নেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এ দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি ‘শেখ মুজিব’ এবং ‘শেখ সাহেব’ নামে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন ছাত্রনেতা। ক্রমে তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃত্বের উচ্চপদে আসীন হয়েছিলেন। তার বড় গুণ ছিল তুখোড় বক্তৃতা প্রদানের ক্ষমতা। সমাজতন্ত্রের পক্ষ সমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একসময় ছয় দফা স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন যাকে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রধান ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন, যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ সালে ভারত সরকারের সাথে ‘যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে তার বিচার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। অথচ তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ার পর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা পরিচালনা করে। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। রহিমুদ্দিন খান সামরিক আদালতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে, তবে তা কার্যকর হয়নি। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। পরের বছরের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি :
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সকাল সাতটায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন নেতারা।
দলের সাধারণ সম্পাদক ও স’ানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সকল শাখার নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে আহবান জানিয়েছেন।
টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় শিশু দিবস সফল করতে সব ধরনের প্রস’তি শেষ। এ উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস’া।
সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। তারা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
বেলা পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের পাবলিক প্লাজায় শিশু সমাবেশ ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন। এরপর একই স’ানে বইমেলার উদ্বোধন করবেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধু ভবনে নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্ন বিরতি করবেন। বেলা তিনটায় তিনি টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।




আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন