দেশি বার্তা - ২৪ ঘন্টা দেশের খবর

সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০১৫

মেলবোর্নে ‘পরিচিত’ উইকেট পাচ্ছে বাংলাদেশ



সোমবার, ১৬ মার্চ ২০১৫



e8t76s89দেশি বার্তা অনলাইন ডেস্ক: গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল। সেদিন এমসিজিতে বাংলাদেশ যেই উইকেটে খেলেছিল ভারতের বিপক্ষে একই উইকেটে খেলবে!


বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহে এমনটিই ধারণা দিয়েছেন। সোমবার এমসিজিতে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেই উইকেটে আমরা খেলেছি সেই উইকেটে ১৯ মার্চের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উইকেট থেকে স্পিনাররা বাড়তি কোন সুবিধা পাবে না।’


এদিকে মেলবোর্নের আকাশে কদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। নক-আউট পর্ব হওয়ায় বৃষ্টিকে নিয়েও ভাবতে হচ্ছে দুই দলকে। তবে হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন বৃষ্টিকে নিয়ে এখনই কোন চিন্তা করছে না বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার-ফাইনালে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন ইংল্যান্ডের ইয়ান গোল্ড ও পাকিস্তানের আলিম দার।


বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হবে ম্যাচ। বিশ্বকাপে এর আগে ভারত ও বাংলাদেশ দুবার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দল একটি করে ম্যাচে জয়ের স্বাদ নেয়। ২০০৭ সালে প্রথম মুখোমুখিতে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে দেয় সাত উইকেটে। এরপর ২০১১ সালে ভারত বাংলাদেশকে ৮৭ রানে পরাজিত করে।






এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ…



মেলবোর্নে ‘পরিচিত’ উইকেট পাচ্ছে বাংলাদেশ

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন



নিজস্ব প্রতিবেদক :
আজ ১৭ মার্চ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনটিতে গোপালগঞ্জের মধুমতি-বাইগার নদীর তীরে ছায়াঢাকা-পাখিডাকা গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এই মহানায়ক। জাতি দিনটিকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে উদযাপন করবে। দিবসটি আজ পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। আজ সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।


বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো তিনি কারাবরণ করেন। ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তত্কালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন তিনি। ওই সময় থেকে নিজেকে ছাত্র-যুব নেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন। বঙ্গবন্ধু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সামরিক শাসনবিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির অধিকার আদায়ের এসব আন্দোলনের কারণে বারবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়।


১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাঁকে। আওয়ামী লীগপ্রধান হিসেবে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন তথা বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে তাঁদের কারাগারে পাঠান। ঊনসত্তরের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু’র মর্যাদায় অভিসিক্ত করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ; কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্ত পর্বে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেন।


এ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মার্চে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চ তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বজ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ভাষণে সেদিন স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দেন তিনি। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমণ্ডিস্থ বাসভবন থেকে আটক করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ শহীদের আত্মদান এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বীর বাঙালি একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।


১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। সদ্য স্বাধীন দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনি জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ১৫ আগস্টের কালরাতে নিজ বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন তিনি।
জাতির জনকের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তাঁরা জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শপথ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।


সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় শিশু দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেওয়ার পর বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। বিকেলে তিনি এখানে বইমেলার উদ্বোধন করবেন।


এ ছাড়াও জাতীয়ভাবে দিনটি পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। সারাদেশে সব জেলা ও উপজেলা সদরে শিশু সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব জেলা-উপজেলা সদরে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

নাশকতায় দগ্ধরা বাড়ি ফিরছেন অনিশ্চয়তা নিয়ে


গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার বাসিন্দা জমির গত ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে

একটি বাসে অগ্নিদগ্ধ হন। সেদিন থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন

তিনি।


বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জমিরের পা থেকে চামড়া নিয়ে দু’হাতে এবং

মাথার ঠিক মাঝখানে প্রায় পুরোটা পুড়ে যাওয়া অংশে জোড়া দেওয়া হয়েছে।


সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও চোখের চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহ

পর আবার বার্ন ইউনিটে দেখা করতে বলা হয়েছে তাকে।


দুই ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা জমির আলী জানেন না বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর কিভাবে

সংসার চলবে। বড় ছেলে পরিবহনকর্মী হিসেবে কাজ করলেও গত প্রায় দুই মাস বাবার সঙ্গেই কেটেছে

তার।


জমির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সরকারের দেওয়া চেকের কয়েক হাজার

টাকা দিয়ে এই ক’দিন চলেছে কোনোমতে।


“বাইরে থেকেও অনেকে দেখতে এসে সাহায্য করে গেছে কিছু টাকা দিয়ে। এসব দিয়েই

চলছে এখনও।”


জমির আলী বাড়ি ফিরতে পারলেও বগুড়ার আসবাবপত্রের ব্যবসায়ী সাজু মিয়া কবে

বাড়ি ফিরতে পারবেন, তার কোনো ঠিক নেই।


বগুড়ার সদরের মোকামতলার বাসিন্দা সাজুও হাসপাতালে আছেন ২৩ জানুয়ারি থেকে।

বগুড়া থেকে নড়াইল যাওয়ার পথে অগ্নিদগ্ধ হন তিন মেয়ের বাবা সাজু মিয়া।


তারও পা থেকে চামড়া নিয়ে দুই হাতে লাগানো হলেও এখনো বুকের পুরোটাই ব্যান্ডেজে

মোড়া, চামড়া লাগানো বাকি। পুড়েছে মুখের বেশ খানিকটা অংশও।


সাজুর সঙ্গে আছেন তার মা সাজেদা ও স্ত্রী শাহনাজ। শাহনাজ জানালেন, তিন

মেয়েকে বাড়িতে রেখে গত প্রায় দুই মাস ধরে স্বামীকে নিয়ে আছেন এখানে শাহনাজ। সংসারের

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার স্বামী সাজুই।


“বাড়ি যেতে এক হাজার টাকা লাগে, আসতে আবার এক হাজার টাকা লাগে। ক্যামনে

যাব? সরকারের দেওয়া চেকের টাকায় কোনোমতে চলছে ক’দিন ধরে। এরপর কিভাবে চলবে জানি না।”


চোখের পানি মুছতে মুছতে সাজুর মা সাজেদা বলেন, “ঋণ করে ব্যবসা করে আমার

ছেলে। এখানে আসার পর থেকে কিস্তির টাকা বাকি পড়ে আছে। কী করব, বুঝি না।”


গত ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতাল শুরুর পর সড়কে গাড়ি পোড়ানো

ও পেট্রোল বোমা ছোড়া শুরু হলে বার্ন ইউনিটে বাড়তে থাকে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা।


তবে এসব রোগীদের প্রত্যেকের অবস্থাই উন্নতির দিকে বলে জানালেন ‘হরতাল ভিকটিম’দের

ওয়ার্ডের ইন-চার্জ নার্স মোরশেদা খানম। সপ্তাহখানেক ধরে নতুন কোনো রোগী আসেনি বলেও

জানান তিনি।


“আগে অনেক রোগীই মুখে খেতে পারত না, নল দিয়ে খাবার দিতে হত। এখন এখানে

থাকা রোগীদের সবাই মুখ দিয়ে খেতে পারছে।”


বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে আসা ১৬৯ জন রোগীর প্রায় ৯৫ শতাংশ রোগীই অবস্থাই

উন্নতির দিকে। বাকিরাও ধীরে ধীরে রিকভার করছেন।”


বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ জন আছেন, যারা নাশকতার স্বীকার হয়ে হাসপাতালে এসেছেন।


নতুন করে কারো অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই জানিয়ে ডা. পার্থ শংকর বলেন,

“পোড়া ঘা থেকে নতুন করে বড় ধরনের কোনো অসুবিধা হওয়ার মতো কোনো কারণ এখন আর নেই।”




নাশকতায় দগ্ধরা বাড়ি ফিরছেন অনিশ্চয়তা নিয়ে

বিশ্বকাপের পাঁচ সত্য


শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, মনে রাখার মতো হয়েছে অনেক কিছুই। এর মধ্যে কয়েকটি সত্য হয়তো জয়-পরাজয়ের আড়ালে চলে যেতে পারে। নকআউট পর্ব শুরুর আগে সেগুলোর দিকেই একটু চোখ বোলানো যাক—


 


বাঁহাতিদেরবিশ্বকাপ


২৩ বছর আগে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ ফাইনালে জিতিয়েছিলেন ওয়াসিম আকরাম। অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ মানেই যেন বাঁহাতি পেসারদের জয়জয়কার! এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া প্রথম দুজনই বাঁহাতি—মিচেল স্টার্ক ও ট্রেন্ট বোল্ট। মাত্র ৮.৫ গড়ে স্টার্ক নিয়েছেন ১৬ উইকেট, ১৫.৬০ গড়ে বোল্টের উইকেট ১৫টি। পিছিয়ে নেই পাকিস্তানি পেসার ওয়াহাব রিয়াজও—২২.৪২ গড়ে নিয়েছেন ১৪ উইকেট।


 


আক্রমণইদর্শন


রানপ্রসবা এই বিশ্বকাপ বোলারদের জন্য যেন দুঃস্বপ্ন। বৃত্তের বাইরে চারজন ফিল্ডার নিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে অধিনায়কদের। তবুও আক্রমণের সঙ্গে আপস করেননি কেউ কেউ। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ম্যাককালাম-ক্লার্ক মিলে আক্রমণাত্মক অধিনায়কত্বের দারুণ একটা প্রদর্শনী দেখিয়েছেন। ঝলক দেখিয়েছেন ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনিও, বোলারদের কাছ থেকে বের করে আনছেন তাঁদের সেরাটা।


 


ভারত-বসন্ত


যে দলটাকে বিশ্বকাপের আগে বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছিলেন কেউ কেউ, তারাই এখন শিরোপার স্বপ্ন দেখছে। বিশ্বকাপের আগে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলে ভারত জয় পায়নি একটা ম্যাচেও, অথচ এরপর টানা ছয় ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পা রেখেছে পরের পর্বে। নিজেদের ফিরে পাওয়ার এর চেয়ে ভালো সময় ধোনিদের আর হতে পারত না!


 


নন্দনেমন্দা


নামেই শুধু নন্দনকানন, অকল্যান্ডের ইডেন পার্ক কিন্তু ব্যাটসম্যানদের জন্য বিভীষিকা। মাঠের সোজাসুজি সীমানা মাত্র ৫৫ মিটার, রানের ফুলঝুরি ছোটার কথা। অথচ এই মাঠেই হয়েছে লো-স্কোরিং কয়েকটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। ১৫১ রানে অলআউট হয়েও অস্ট্রেলিয়া তো নিউজিল্যান্ডকে কাঁপিয়েই দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত হার ১ উইকেটে। রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচও।


 


আঁধারথেকেআলোয়


আইসিসির ‘১০ দলের’ বিশ্বকাপের ধারণাকে টুর্নামেন্টের শুরুতেই সজোরে একটা চড় মেরেছে আয়ারল্যান্ড। প্রথমেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমকে দেওয়ার পর আরেক টেস্ট খেলুড়ে দেশ জিম্বাবুয়েকেও হারিয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য উঠতে পারেনি শেষ আটে। তবে আইসিসিকে বার্তাটা ঠিকই দিয়েছে। আফগানিস্তান, আরব আমিরাত, স্কটল্যান্ড বড় কিছু করতে না পারলেও মাঝেমধ্যেই ঝলক দেখিয়েছে। এএফপি।




বিশ্বকাপের পাঁচ সত্য

চট্টগ্রামে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে আগুন






প্রকাশ : ১৭ মার্চ, ২০১৫ ০২:৩৩:৪৩অ-অ+
printer


চট্টগ্রামে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে আগুন


চট্টগ্রামে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে আগুনদেশি বার্তা ডটকম,চট্টগ্রাম: নগরীর খুলশী থানার দামপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে পার্ক করে রাখা গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার রাত ১১ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।


খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চক্রবর্তী শীর্ষ নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


শীর্ষ নিউজডটকম/প্রতিনিধি/আল-আমিন


১৭ মার্চ ২০১৫


 





চট্টগ্রামে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসে আগুন

ফুলবাড়িয়ায় আ’লীগ ক্যাডারদের মধ্যযুগীয় পৈশাচিক বর্বরতা



মার্চ ১৭



পূর্বাহ্ন ০১:১৪
মঙ্গলবার ২০১৫





1নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মামা ভাগ্নে মিলে বেড়াতে আসে শ্বশুর বাড়িতে। ভাগ্নে মনির হোসেনকে স্থানীয় আশরাফ আলীর একটি পোল্ট্রি ফার্মে কাজ নিয়ে দেয় মামা দুলাল হোসেন। যেদিন কাজ নিয়ে দেয় সে রাতেই মালিকের বাড়ি থেকে ডিস্কোবার ১২৫ সিসি একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে লিচু গাছে ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় দিনভর নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি, প্লাস দিয়ে টেনে টেনে জামাই দুলাল মিয়ার পায়ের নখ উপড়ে ফেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা পিচ্চি সুমন ও জালাল উদ্দিন উরফে শুদ্ধ জালাল। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কাহালগাঁও গ্রামে। ঘটনাটি নিয়ে একটি মহল বিএনপি নেতা স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদার ও তার ছোট ভাই উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ূম তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, কাহালগাঁও গ্রামের হযরত আলীর মেয়ে শেফালীর স্বামী ভালুকা উপজেলার হাতিবেড় গ্রামের দুলাল মিয়া ও তার ভাগ্নে মনির হোসেন গত মঙ্গলবার কাহালগাঁও গ্রামে বেড়াতে আসেন। জামাই দুলাল মিয়া একই গ্রামের আশরাফ আলীর বাড়িতে পোল্ট্রি ফার্মে কাজ নিয়ে দেন তার ভাগ্নে মনির হোসেনকে । ঐরাতে আশরাফ আলীর বাড়িতে থাকেন মামা ও ভাগ্নে। রাতে যে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল তাদের চৌকির পাশেই ছিল আশারাফ আলীর পুত্র মনিরুজ্জামান বাদলের ডিস্কোবার ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলটি। ঘরের বাইরে থেকে চৌকির একহাত দূর দিয়ে সিঁধকাটা। সকালে বাড়ির লোকজনদের জামাই দুলাল মিয়া ও ভাগ্নে মনির হোসেন জানায়, চোরেরা সিঁধকেটে মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে গেছে। বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয় মোটরসাইকেল চুরির সাথে তারাই জড়িত। এ ঘটনায় দুলাল মিয়া ও মনির হোসেনকে বুধবার সরাদিন অমানুষিক নিষ্ঠুরভাবে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন করেন পিচ্চি সুমন ও শুদ্ধ জালালসহ স্থানীয় ১০/১৫ জন। এক পর্যায়ে অর্ধশত লোকজনের উপস্থিতিতে জামাই দুলাল মিয়াকে বাড়ির পাশে লিচু গাছে ঝুলিয়ে ব্যাপক মারপিট করে প্লাস দিয়ে উপড়ে ফেলে তার পায়ের তিনটি নখ। মুমূর্ষু অবস্থায় রাতে আহত দুলাল মিয়া ও মনির হোসেনকে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে একাধিক লোকজন বলেন, এভাবে মানুষকে কোনো মানুষ নির্যাতন করতে পারে না। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের ঘটনা শুনে এগিয়ে গেলে শুদ্ধ জালাল অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে বলেন, ‘মোড়ল বাড়ির বিচার, মোড়ল বাড়ির মানুষই করতে পারে’ কোনো নেতা বা মাতাব্বরের টাইম নাই। যে কারণে এলাকার গণ্যমান ব্যক্তিরা এগিয়ে যায়নি। ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন তালুকদারকে জানালে তিনি তাদেরকে মারপিট করতে নিষেধ করে অভিভাবকদের খবর দিতে বলেন।
নির্যাতনের শিকার দুলালের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুলাল তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী শেফালীকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন। স্ত্রীর পাঠানো টাকা দিয়ে শ্বশুর বাড়িতে বেশ কয়েক কাঠা জমি কেনেন দুলাল। সেই জমি আত্মসাত করার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন গত বুধবার দুলালকে একটি মোটর সাইকেল চুরির অপবাদ দিয়ে আশরাফ আলীর বাড়ির একটি লিচু গাছে ঝুলিয়ে দিনভর নির্যাতন করেন যুবলীগ নেতা পিচ্চি সুমন, আশরাফ আলী, জালাল ও আব্দুল মান্নানসহ ১০/১৫ জন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান কবির হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল চুরির বিষয়টি শোনার পর তাদের অভিভাবকদের খবর দিতে বলেছিলাম বাড়ির লোকজনদের। এরপর আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আর আমিও ব্যস্ত ছিলাম আমার ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের উপনির্বাচন হলো ১৯ মার্চ। ঐদিন ভোটকেন্দ্র দেখতে আসেন নির্বাচন অফিসের লোকজন। তিনি আরও বলেন, আমিসহ আমার ছোট ভাই উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ূম তালুকদারের বিরুদ্ধে একটি মহল ঘটনাটি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় নির্যাতিত মনিরের পিতা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আশরাফ আলী, সুমন, জালাল, মান্নান, মানিক, রিয়াজসহ এজাহার নামীয় ১০ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শ্যালক ও পুত্রকে মারপিট করার অভিযোগে শুক্রবার ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল খায়ের জানান, ঘটনার সাথে জড়িত রিয়াজ নামের একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।




ফুলবাড়িয়ায় আ’লীগ ক্যাডারদের মধ্যযুগীয় পৈশাচিক বর্বরতা

মেলবোর্নে বাংলাদেশ পাচ্ছে পরিচিত উইকেট


pitc
স্পোর্টস ডেস্ক
দেশি বার্তা:


গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল। সেদিন এমসিজিতে বাংলাদেশ যেই উইকেটে খেলেছিল, ভারতের বিপক্ষে একই উইকেটে খেলবে!


বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে এমনটিই ধারণা দিয়েছেন। সোমবার এমসিজিতে হাথুরুসিংহে বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যেই উইকেটে আমরা খেলেছি, সেই উইকেটে ১৯ মার্চের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উইকেট থেকে স্পিনাররা বাড়তি কোনো সুবিধা পাবে না।’


এদিকে মেলবোর্নের আকাশে কদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। নক-আউট পর্ব হওয়ায় বৃষ্টিকে নিয়েও ভাবতে হচ্ছে দুই দলকে। তবে হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন, বৃষ্টিকে নিয়ে এখনই কোনো চিন্তা করছে না বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ-ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠের আম্পায়ার থাকবেন ইংল্যান্ডের ইয়ান গোল্ড ও পাকিস্তানের আলিম দার।


বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে ম্যাচ। বিশ্বকাপে এর আগে ভারত ও বাংলাদেশ দুবার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দল একটি করে ম্যাচে জয়ের স্বাদ নেয়। ২০০৭ সালে প্রথম মুখোমুখিতে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে দেয় ৫ উইকেটে। এরপর ২০১১ সালে ভারত বাংলাদেশকে ৮৭ রানে পরাজিত করে।


এফ এ আরিফ




মেলবোর্নে বাংলাদেশ পাচ্ছে পরিচিত উইকেট

সারাদেশে ২৬৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন



সারাদেশে ২৬৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতালে ঢাকাসহ সারাদেশে নাশকতা এড়াতে ২৬৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় বিজিবির সদরদপ্তর থেকে এক তথ্য জানানো হয়।


জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীতে ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ৬ প্লাটুন সকাল থেকে ঢাকা শহরে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।


এছাড়া, দেশের বিভিন্নস্থানে মঙ্গলবার সকাল থেকে ২৪ ঘন্টার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ১৪২ প্লাটুন এবং মহাসড়কের নিরাপত্তার দায়িত্বে ১১১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। আরও ৬৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য সারাদেশে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে সদরদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।


এসআর/এইচজে




সারাদেশে ২৬৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বিলবোর্ড দখল


জাতীয় প্রেস ক্লাব ও শিক্ষা ভবনের মধ্যকার মোড়ে কদম ফোয়ারার দক্ষিণে চারটি বাঁশের খুঁটির ওপর নড়বড়ে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকৃতির দুটি রঙিন বিলবোর্ড। তাতে শোভা পাচ্ছে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের স্মিতহাসির ছবি। সে সঙ্গে রয়েছে লাল-সবুজের তারকাখচিত আওয়ামী লীগের একটি পতাকা। ওপরের এক কোণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। এরই মধ্যে সাদা রঙে লেখা ‘জনগণই আমার শক্তি’- হাজি মো. সেলিম, সংসদ সদস্য, ঢাকা-৭, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। প্রচারে এলাকাবাসী।


দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না, বাঁশের খুঁটির ওপর নির্মিত এই বিলবোর্ড দুটি সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনেও (ডিএসসিসি) খোঁজ নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে হাজি মো. সেলিম সমকালকে বলেন, সিটি করপোরেশন বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনি বিলবোর্ড ভাড়া নেননি। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তার নামে কারা বিলবোর্ড লাগিয়েছে, সেটাও তিনি জানেন না।


কেবল হাজি মো. সেলিমেরই নয়, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এখন বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে প্রার্থীদের প্রচারণায় সয়লাব হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা। ঢাকার অনেক স্থানে এখন শোভা পাচ্ছে মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন ও আনিসুল হকের নামে স্থাপিত বিলবোর্ড। উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী ও গাবতলী থেকে রামপুরার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যানার-বিলবোর্ডের মাধ্যমে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নানা স্লোগান ও নানা চেহারার ছবি দিয়ে চলছে দলীয় ও নগরবাসীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা।


ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিবছর জুলাই-জুন মাসের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিলবোর্ড তৈরির অনুমতি নেয়। ওই সব প্রতিষ্ঠান বিলবোর্ড তৈরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন মেয়াদে ভাড়া দেয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রার্থীরা বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে সেগুলো ভাড়া না নিয়েই তাদের প্রচারণার কাজে ব্যবহার করছেন। প্রচারে এলাকাবাসী, আমরা ঢাকা, ওয়ার্ডবাসী, ঢাকাবাসী, ওয়ার্ড সভাপতি_ এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করলেও আদতে প্রার্থীদের উদ্যোগে বা সম্মতিতেই সেগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রার্থীই ভবিষ্যতে মেয়র বা কাউন্সিলর হবেন, কাজেই বাধা দিলে ভবিষ্যতে ব্যবসা করাই কঠিন হয়ে পড়ার ভয়ে তারাও কিছু বলছেন না। কারণ, ভবিষ্যতে বিলবোর্ডের অনুমোদন নিতে হলে তাকে সিটি করপোরেশনেই যেতে হবে; বরং তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এই স্বল্প সময়ের জন্য কোনো ঝামেলায় যেতে চাইছেন না। আর প্রার্থীরা বলছেন, এসব বিলবোর্ড তারা লাগাননি। কে লাগিয়েছে, তা-ও তারা জানেন না। তাদের ধারণা, সমর্থক বা দলীয় কর্মীরা এ কাজ করে থাকতে পারেন।


বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ আউটডোর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নেপচুন অ্যাড-এর মালিক রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, যারা ঢাকা শহরের অভিভাবক হবেন, তারা এমনভাবে বিলবোর্ড দখল করবেন, এটা তিনি বিশ্বাস করতে চান না। তার কয়টা দখল হয়েছে, সেটাও তিনি বলতে রাজি নন।


তবে সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘এর আগে ঢাকা মহানগর যুবলীগের সম্মেলনের সময় একই ঘটনা ঘটেছিল। এবারও বিলবোর্ডগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা কাউকে জিজ্ঞাসা করেননি। ভাড়া নেওয়া দূরের কথা, এ নিয়ে বহুবার বহু জায়গায় বলেছি। কোনো সুরাহা হয়নি। কাজেই যেটার কোনো সমাধান নেই, সেটা বলে লাভ কী। অথচ আমার বিলবোর্ড দখল করে নেওয়ায় একজন ক্লায়েন্ট তাদের পারচেজ অর্ডার ক্যানসেল করার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু আমার করার কিছু নেই। এর আগে একবার সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। কিন্তু এখন তো আমরা অসহায়।’


আরেক বিলবোর্ড ব্যবসায়ী বন্ধু মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী কাজী মাহবুব আলম সমকালকে বলেন, ‘আমার ছয়টা বিলবোর্ড তারা দখল করেছে। এর মধ্যে কোনোটাই আমার কাছ থেকে ভাড়া নেয়নি। কোনো কিছু জিজ্ঞাসাও করেনি। নাগরিক কমিটি, না কোন কমিটি লাগিয়েছে। সেই নাগরিক কমিটির লোকজনকেও তো চিনি না। তাহলে যাব কার কাছে? এখন নীরবে সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।’


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, রাজধানীতে অসংখ্য অনুমোদনহীন বিলবোর্ড রয়েছে। ওই সব বিলবোর্ডও অনেক প্রার্থী দখল করে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। অনুমোদনহীন বিলবোর্ড চেনারও একটি উপায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈধ বিলবোর্ডের খুঁটিতে বা এক কোণে ওই বিলবোর্ডের অনুমোদনের একটি স্মারক নম্বর হলুদ রঙে উল্লেখ করা থাকে। যেটাতে স্মারক নম্বরের উল্লেখ নেই, সেটাই অবৈধ।


সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর হেয়ার রোডে ফুটপাতের ওপরে বিলবোর্ডে একটি শিশুকে আদর করা অবস্থায় প্রার্থী সাঈদ খোকনের ছবি। সেখানে লেখা, ‘আসুন, শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়ক নগরী গড়ে তুলি।’ নিচে লেখা- সাঈদ খোকন। জনতার প্রার্থী, আপনার প্রার্থী। প্রচারে সুনাগরিক। কিন্তু এই সুনাগরিক সংগঠনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ওই বিলবোর্ডের কোথাও স্মারক নম্বরও নেই।


এ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন সমকালকে বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকরা লাগিয়ে থাকতে পারে। যারা নির্বাচন করেন, তাদের পক্ষে অনেক মানুষ কাজ করেন। কোন সমর্থক বা শুভানুধ্যায়ী এসব বিলবোর্ড লাগিয়েছে, তা জানি না। তবে যদি আইন ভঙ্গ করে বা দখল করে এগুলো লাগানো হয়ে থাকে, তাহলে তাদের প্রতি অনুরোধ করব, বিলবোর্ডগুলো যেন তারা নামিয়ে ফেলেন। এ ছাড়া আমার করণীয় কিছু নেই।’


একাধিক বিলবোর্ড ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশেষ করে যেসব বিলবোর্ড খালি অবস্থায় আছে, সেগুলোই দখলের কবলে পড়ছে বেশি। হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে, সেখানে একজন প্রার্থীর ছবিসংবলিত প্রচারণা। এ রকমই একটা বিলবোর্ড দেখা গেছে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১১ নম্বরের দিকে এগোতেই ফুটপাতে। সেখানে কামাল মজুমদারের মধ্য বয়সের ছবি দিয়ে লেখা, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ মজুমদারকে মেয়র পদে দেখতে চাই। সৌজন্যে ঢাকা উত্তর নগরবাসী।’ এ ব্যাপারে ফোনে একাধিকবার কামাল মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


রাজধানীর সোনারগাঁ মোড়ে দেখা গেছে, একটি বিলবোর্ডে জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলনের ছবিসংবলিত নগরবাসীর প্রতি তার আহ্বান, ‘নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন। কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে খারাপ লোককে ভোট দেবেন না।’ স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগেও ওই বিলবোর্ডটিতে বিএসআরএম এক্সট্রিম নামের একটি রড কোম্পানির বিজ্ঞাপন শোভা পাচ্ছিল। হঠাৎ করেই সেখানে মিলনের ছবি ভেসে উঠেছে।


এ প্রসঙ্গে হাজি সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন সমকালকে বলেন, তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকেও কোনো বিলবোর্ড ভাড়া নেননি। কে তার নামে বিলবোর্ড লাগিয়েছে, তা তিনি জানেন না। তার দলের পক্ষে প্রচারণা চালানো ব্যক্তিরা লাগিয়ে থাকতে পারে। সেটা খোঁজ নিয়ে দেখবেন, তারা ভাড়া নিয়ে লাগিয়েছে কি-না। ভাড়া না নিলে তিনি নিজেই সেটা নামানোর ব্যবস্থা করবেন।


রাজধানীর কালশীতে মিরপুর বাইপাসের সংযোগস্থলে দেখা গেছে আনুমানিক ২০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের একটি বিলবোর্ডে সাবেক ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হকের ছবি। তাতে লেখা, ‘বায়ুদূষণে বছরে মারা যায় ১৫ হাজার মানুষ। ড্রেন নেই ঢাকার ৬০ ভাগ এলাকায়। পরিবেশদূষণ সমস্যা চিহ্নিত। এবার সমাধানের যাত্রা। আনিসুল হককে মেয়র নির্বাচনে সমর্থন দিন।’ নিচে লেখা ‘আমরা ঢাকা’। স্থানীয়রা জানান, ওই বিলবোর্ডটি অনেক দিন ধরেই খালি ছিল। সেখানে এটা লাগানো হয়েছে। কিন্তু এমন দুর্বলভাবে লাগানো হয়েছে, একটু ঝড়োবাতাস হলেই সেটি খুলে পড়তে পারে। এ ছাড়া এয়ারপোর্ট রোডের প্রায় সর্বত্রই দেখা গেল, সড়ক বিভাজকের সড়কবাতির খুঁটিতে ‘আমরা ঢাকা’র ব্যানারে অসংখ্য ফেস্টুন। প্রতিটিতেই লেখা, ‘আনিসুল হককে মেয়র নির্বাচনে সমর্থন দিন।’


প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক সমকালকে বলেন, আনিসুল হকের পক্ষ থেকে ডিএনসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। জানিয়েছিলেন, কিছু বিলবোর্ড তিনি ভাড়া নিতে চান। বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এর পর আর তিনি যোগাযোগ করেননি।’ এ প্রসঙ্গে আনিসুল হক সমকালকে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রার্থী। এ জন্য অনেকেই তাকে বিনা ভাড়ায় বিলবোর্ড দিতে চেয়েছেন। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের কোনো অভিযোগ না থাকলে মিডিয়ারও এ বিষয়ে অভিযোগ থাকার কথা নয়। কতগুলো বিলবোর্ড কত টাকায় ভাড়া নিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকার পরিমাণ মূল বিষয় নয়। পাঁচ টাকা হলেও তাদের দিয়েছি।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী খান সমকালকে বলেন, অনুমোদিত বিলবোর্ডে কে কী প্রচারণা চালাল, সেটা দেখার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের নয়। তবে অবৈধ বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুন উচ্ছেদ অভিযান দ্রুতই তারা শুরু করবেন।




বিলবোর্ড দখল

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন


সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -ফাইল ছবি

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -ফাইল ছবি



পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম লৌহমানব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি তিনি। ভালোবেসে বাঙলার মানুষ তাকে উপাধি দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’। আজ সেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন। শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধু।
আজ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ শুধু বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নয়, একইসঙ্গে জাতীয় শিশু দিবসও। আজ সরকারি ছুটির দিন। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন চলছে। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতার জন্মদিনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা আজ টুঙ্গীপাড়ায় যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। আওয়ামী লীগ আজ দেশব্যাপী উদ্বেলিত কর্মসূচি পালন করছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জাতির জনকের শুভ জন্মদিন উদযাপন করছে।
এক নজরে বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের এই দিনে টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান ও মাতার নাম সায়েরা খাতুন। পিতামাতার চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয়। খোকা নামের সেই শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালির ত্রাতা ও মুক্তির দিশারী। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ এবং জনগণের প্রতি মমত্ববোধের কারণে পরিণত বয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা। এক রাজনৈতিক সংগ্রামবহুল জীবনের অধিকারী এই নেতা বিশ্ব ইতিহাসে ঠাঁই করে নেন স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এ দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি ‘শেখ মুজিব’ এবং ‘শেখ সাহেব’ নামে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।
১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন ছাত্রনেতা। ক্রমে তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃত্বের উচ্চপদে আসীন হয়েছিলেন। তার বড় গুণ ছিল তুখোড় বক্তৃতা প্রদানের ক্ষমতা। সমাজতন্ত্রের পক্ষ সমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একসময় ছয় দফা স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন যাকে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ছয় দফা দাবির মধ্যে প্রধান ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন, যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ সালে ভারত সরকারের সাথে ‘যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে তার বিচার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। অথচ তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ার পর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা পরিচালনা করে। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। রহিমুদ্দিন খান সামরিক আদালতে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে, তবে তা কার্যকর হয়নি। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। পরের বছরের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি :
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সকাল সাতটায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন নেতারা।
দলের সাধারণ সম্পাদক ও স’ানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সংগঠনের সকল শাখার নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে আহবান জানিয়েছেন।
টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় শিশু দিবস সফল করতে সব ধরনের প্রস’তি শেষ। এ উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস’া।
সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। তারা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
বেলা পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের পাবলিক প্লাজায় শিশু সমাবেশ ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন এবং বক্তব্য রাখবেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন। এরপর একই স’ানে বইমেলার উদ্বোধন করবেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধু ভবনে নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্ন বিরতি করবেন। বেলা তিনটায় তিনি টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।




আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

সিরিয়া ইস্যুতে কেরির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করলেন তারই মুখপাত্র


১৬ মার্চ (দেশি বার্তা): সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি আগ্রহ প্রকাশ করার পরপরই আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ওই মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ। তিনি বলেছেন- আমেরিকা কখনই বাশার আসাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বাশার আসাদের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেননি বলে তিনি দাবি করেন।


 


গত রোববার সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জন কেরি বলেছিলেন, তার দেশ সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে চায়। কেরি দাবি করেন, আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের আরো কিছু দেশ আলোচনায় বসার জন্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ বক্তব্যের পরপরই প্রতিক্রিয়া দেখায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র।


 


সিরিয়ার সরকার বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে প্রথম থেকেই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্র কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক। সাম্রাজ্যবাদ ও ইহুদিবাদ বিরোধী অবস্থান নেয়ার কারণে বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চলছে দীর্ঘ দিন ধরেই। জাতিসংঘ বলেছে, সিরিয়ায় বহিঃশক্তির চাপিয়ে দেয়া সহিংসতায় গত চার বছরে দুই লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুহারা হয়েছে আরো লাখ লাখ মানুষ।#


 


দেশি বার্তা/এসএ/১৬


 




সিরিয়া ইস্যুতে কেরির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করলেন তারই মুখপাত্র

লোভেরও ব্যকরণ আছে


এদেশের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সর্বনাশ করলো কে?’ শিরোনামে মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রধানত দায়ী করলেন গাইডবই ব্যবসায়ীদের। তাদের লোভের বলি হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা, ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা, এমনকি নোট বই বন্ধ করার জন্য যে সৃজনশীল পদ্ধতি আবিষ্কার করা হলো, সেটাকেও মুক্ত করা গেলো না এই থাবা থেকে, মোটামুটি এই হলো তার সিদ্ধান্তসমূহ।


শুধু লোভ! বিজ্ঞানীদের এই কারণেই সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কেও কিছু ধারণা থাকা দরকার। লোভেরও ব্যকরণ আছে, নিয়ম-কানুনের উর্ধে সে নয়। সমাজধ্বংসী লোভের উৎপত্তি খোঁজা সম্ভব, তার নিরাময়ও সর্বাংশে না হলেও গ্রহণযোগ্যমাত্রায় নামিয়ে আনাও কঠিন না। নোটবই-গাইড বইয়ের চাহিদা কেন তৈরি হলো, এত এত আইন তৈরি করেও কেন এগুলো বন্ধ করা গেলো না, সে বিষয়ে লেখক কি কিছু ভেবেছেন? কিছু প্রাথমিক ভাবনার রসদ দেয়া যাক:


১. কোন একটা পণ্য কেন বাজারে চালু থাকে? চাহিদা আছে বলেই। বিদ্যালয়ে যথাযথ শিক্ষা দেয়া হলে গাইড বই ধরার কি দরকার পড়তো শিক্ষার্থীদের?


২. তো শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে কেন যথাযথ শিক্ষা পান না? সম্ভবত তিনটে প্রধান কারণ আছে। এক, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে পড়ান না, বাড়িতে আসতে বলেন। দুই, শিক্ষকরা যোগ্য নন। তিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ভয়াবহ রকমের বেশি।


শিক্ষকরা বাড়িতে পড়তে আসতে বলেন কেন? আইন করে কি তা বন্ধ করা যাবে? কখনো যাবে না, যতক্ষণ না আইন মেনে মোটামুটি সম্মানজনক জীবিকা তারা তারা অর্জন করতে পারছেন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচে বড় সর্বনাশ যদি কেউ করে থাকে, সেটা সকল শিক্ষামন্ত্রী কিংবা অর্থমন্ত্রীরা, যারা শিক্ষকদের জন্য এমন বেতন নির্ধারণ করে আসছেন যুগ যুগ ধরে যে কোন যোগ্য ছেলে-মেয়ে শিক্ষক হবার কথা ভাবতে পারে না। যদি কেউ তা হনও, আর্থিক চাপে তাদের অধিকাংশের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। তারা আত্মসমর্পণ করেন। যতদিন না এমন বেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের জন্যও নির্ধারিত না হবে যে সবচে যোগ্য ছেলেমেয়েরা শিক্ষকতায় আসছেন, ততক্ষণ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির কথা কল্পনাই করা যাবে না।


আর্থিক দুরাবস্থার স্বাভাবিক ফলাফল হলো খুব সম্ভবত দেশের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষা প্রদানের উপযুক্তই নন। মফস্বলে যাওয়া আসা আছে, এমনকি শহরের বিদ্যালয়গুলোতেও, শিক্ষকদের মানের ভয়াবহতা না খেয়াল করে পারবেন না। এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখন অনুদান নিয়ে যেমন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়, তেমনি অনুদান নিয়ে বাড়ির বসে থাকা সদস্যদের, পুত্র, মেয়ের জামাই, পুত্রবধু ইত্যাদিকে শিক্ষকতা পেশা জুটিয়ে দেয়ার ভয়ানক এক প্রবণতা শুরু হয়েছে মফস্বলে। এই শিক্ষকরা কি করে ব্যকরণ বা গণিত, রসায়ন বা পদার্থবিদ্যা বোঝাবেন? কি করে ভুগোল বা ইতিহাসে আগ্রহী করবেন শিক্ষার্থীদের?


শিক্ষার্থী শিক্ষক অনুপাতটাও পড়াবার অনুকূল নয় বহুক্ষেত্রে। অবশ্য জনপ্রিয় শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পাঠদানেও ব্যবসাতেও দেখা যাবে চল্লিশ পঞ্চাশ জন উপস্থিত!


৩. তাহলে যে ব্যবস্থায় আপনি প্রায় সকল শিক্ষার্থীকে ধরেবেধে এমন দশার মাঝে ফেললেন যেখানে মুখস্ত করাই একমাত্র উপায়, সেখানে নোটবই গাইড বইয়ের রমরমা খুবই সঙ্গত এবং স্বাভাবিক। এখানে নানান নিয়মকানুন জারি করা কিংবা এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কামান দাগানো সামান্যই উপকারে আসবে।


৪. আরও ছোটখাট কিছু বিষয়। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কোন খাবার দেয়া হয় না শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের বিষয় বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি খিদে পেটে কোন পড়া তার বুদ্ধিতে কুলোয় না, অতএব মুখস্তই অবলম্বন হয়। ঢোকে না। হয়তো এই কারণেই সভ্য দেশগুলোতে বাচ্চাদের খাবারের বন্দোবস্ত করা হয়।


৫. খুব সম্ভবত আমাদের বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের দৈনিক কাটানো সময়ের পরিমানও বাড়ানো দরকার। তার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য বিরতি এবং খেলাধূলার ব্যবস্থা করা দরকার। একই বিদ্যালয়ে সকাল বিকাল দুই দফায় দুই দল শিক্ষার্থীকে পড়ানো সম্পদের সীমাবদ্ধতার অজুহাতে করে আসা হচ্ছে। সম্পদ আমাদের কম নেই, দরকার সেগুলোকে লুটের মাল বানানো বন্ধ করা।


৬. মধ্যবিত্ত -উচ্চবিত্ত তার সন্তানদের বাড়িতে পড়াবার জন্য মাসে পাঁচ থেকে বিশ হাজার পর্যন্ত অনায়াসে খরচ করছেন। দরিদ্র মানুষও এক দুই হাজার টাকা নাভিঃশ্বাস তুলে খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেন আমরা শিক্ষার উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছল মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চআয়ের মানুষের ওপর শিক্ষাকর বসিয়ে সকলের জন্য একই পদ্ধতির এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করছি না যেটা সারা দেশে একই মানের যোগ্য শিক্ষকদের তুলে দেবে শিক্ষার্থীদের সামনে?


পাঠশালাটাকেই এমন বানিয়ে ফেলার প্রস্তাব করুন না, চারদিকের বিপুল চুরিদারির টাকাগুলো শিক্ষায় বরাদ্দ করতে বাধ্য করে এমন আওয়াজ তুলুন না যেখানে নোটবই গাইড বইয়ের চাহিদাটাই উধাও হয়ে যাবে! এমন শিক্ষানীতি নিন যেন বিদ্যালয়গুলোই এমন হয় যেখানে ছেলেটা-মেয়েটা খেলাধূলা করবে, একটা নাশতা আর একটা ভারি খাবার খাবে, আর পড়াশোনার আগাপাশতলা সেখানেই শেষ করে বাড়িতে এসে বাবা-মার সাথে জেগে থাকার বাকি সময়টুকু হেসেখেলে কাটাবে।


- ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন




লোভেরও ব্যকরণ আছে

‘আমার সোনার বাংলা’ ভারতীয় সাইটে


india websiteদেশি বার্তা অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় বিভিন্ন ওয়েবসাইট খুললেই আমার সোনার বাংলা লেখাটি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশি কিছু হ্যাকার ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করায় এ ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ক্রিকেট নিয়ে কটূক্তি করায় ভারতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব ওয়েবসাইট একযোগে হ্যাক করা শুরু করে বাংলাদেশি হ্যাকাররা।


হ্যাকিংয়ের পর ওয়েবসাইটগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ছাড়াও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছবি দেয়া হয়েছে।


হ্যাকিংয়ে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার্স, থ্রিএক্সপিওয়ানআরথ্রি সাইবার আর্মি, বাংলাদেশ গ্রে হ্যাট হ্যাকার্স, সাইবার সোর্ড টিম সিসি ও বাংলাদেশ স্ক্রিপ্ট কিডি হ্যাকার্স।


এর আগে বাংলাদেশকে কটূক্তি করে ভিডিও প্রকাশ করায় আজ থেকে সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশি হ্যাকাররা।


হ্যাকিংয়ে অংশ নিয়েছে অরিজিলান মেন্টাল, রাজ্জহীন রাজপুত্র, ডেডম্যান, ওয়াইট ড্রাগন ও ডার্ক শ্যাডোসহ বাংলাদেশি অনেক হ্যাকার।




‘আমার সোনার বাংলা’ ভারতীয় সাইটে

আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন



নিজস্ব প্রতিবেদক :
আজ ১৭ মার্চ। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনটিতে গোপালগঞ্জের মধুমতি-বাইগার নদীর তীরে ছায়াঢাকা-পাখিডাকা গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এই মহানায়ক। জাতি দিনটিকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে উদযাপন করবে। দিবসটি আজ পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। আজ সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।


বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো তিনি কারাবরণ করেন। ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ তত্কালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন তিনি। ওই সময় থেকে নিজেকে ছাত্র-যুব নেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন। বঙ্গবন্ধু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সামরিক শাসনবিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির অধিকার আদায়ের এসব আন্দোলনের কারণে বারবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়।


১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাঁকে। আওয়ামী লীগপ্রধান হিসেবে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন তথা বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে তাঁদের কারাগারে পাঠান। ঊনসত্তরের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু’র মর্যাদায় অভিসিক্ত করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে আওয়ামী লীগ; কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্ত পর্বে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেন।


এ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মার্চে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চ তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বজ কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ভাষণে সেদিন স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দেন তিনি। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমণ্ডিস্থ বাসভবন থেকে আটক করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে তিরিশ লাখ শহীদের আত্মদান এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বীর বাঙালি একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।


১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু। সদ্য স্বাধীন দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কাজে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তিনি জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ১৫ আগস্টের কালরাতে নিজ বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন তিনি।
জাতির জনকের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তাঁরা জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শপথ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।


সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় শিশু দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেওয়ার পর বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। বিকেলে তিনি এখানে বইমেলার উদ্বোধন করবেন।


এ ছাড়াও জাতীয়ভাবে দিনটি পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। সারাদেশে সব জেলা ও উপজেলা সদরে শিশু সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব জেলা-উপজেলা সদরে বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

জাতির জনকের জন্মদিনে নানা কর্মসূচি


১৯২০ সালের ১৭ মার্চ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। কালক্রমে তার হাত ধরেই বিশ্ব

মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।


বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে

সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।


মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডির

৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো

হবে। এর আগেই সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে

জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।


গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায়

বঙ্গবন্ধুর সমাধি প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা এবং গ্রন্থমেলা

ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।


জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর

অবদান স্মরণ করে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু একজন ব্যক্তি

নন, তিনি এক অনন্যসাধারণ ইতিহাস। তিনি নিজ গুণ ও কর্মে পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ,

দেশ ও দেশি বার্তাীন বিশ্বে চির ভাস্বর হয়ে আছেন। তিনি কেবল বাঙালির নন, বিশ্বে নিপীড়িত-শোষিত

মানুষের স্বাধীনতার প্রতীক, মুক্তির দূত।”


আলাদা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী

শেখহাসিনা বলেন, “জাতির পিতা শুধু বাঙালি জাতিরই নয়, তিনি ছিলেন বিশ্বের সকল নিপীড়িত-শোষিত-বঞ্চিত

মানুষের অধিকার আদায় ও মুক্তির অগ্রনায়ক।”


বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের

প্রচলিত আদালতে বিচার ও রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি কিছুটা হলেও দায়মুক্ত হয়েছে

উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত অবশিষ্ট পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে

রায় কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।


“স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক

গোষ্ঠী এবং গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ

সমাপ্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর,” বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।


বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে

ছাত্রলীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ও

টুঙ্গীপাড়ায় সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয়

মসজিদে মিলাদ ও আলোচনা সভা হবে।


যুবলীগও নিজেদের কার্যালয়ে

দলীয় ও জাতির পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। এছাড়াও

এই যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।


বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)

বহির্বিভাগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার উদ্বোধন করা হবে।


টুঙ্গিপাড়ায় এক সাধারণ

পরিবারে জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে তার

রাজনীতির দীক্ষাগুরু ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।


গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের

মতো কারাবরণ করেন শেখ মুজিব।


ম্যাট্রিকুলেশন পাসের

পর কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল

হকসহ তৎকালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন শেখ মুজিব।


ওই সময় থেকেই নিজেকে

ছাত্র-যুবনেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেন, যোগ দেন আওয়ামী মুসলিম লীগে,

যা পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে আওয়ামী লীগ নাম নেয়।


১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার

করা হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত তিনি বারবার কারারুদ্ধ হন।


১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট

নির্বাচন, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন

বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন জনগণের দাবি আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ

মুজিব।


বাঙালির অধিকার আদায়ের

আন্দোলনে বারবার কারাগারে যেতে হতে হয়েছে শেখ মুজিবকে। আর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়

অংশগ্রহণ তাকে নিয়ে যায় বাঙালির নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ-প্রধান হিসেবে ’৬৬-এ ঐতিহাসিক

ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি, যার পরে ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ

হতে হয় তাকে।


’৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের

মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়। ’৭০-এর নির্বাচনে বাঙালি

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার পক্ষে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ

রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে

বাঙালির এ নির্বাচনী বিজয়কে মেনে নেয়নি।


এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের

আন্দোলনকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ দেন। ’৭১-এর

মার্চে শুরু করেন অসহযোগ আন্দোলন।




৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স

ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে তার ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের

মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাঙালিকে স্বাধীনতা আন্দোলনের

পথে ধাবিত করে।


’৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি

সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করার পর সে রাতেই বন্দি হন শেখ মুজিব।

তবে তার আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান তিনি।


মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা

সময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকলেও তার নামেই যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে বাঙালি।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতিও ছিলেন তিনি।


অন্যদিকে স্বাধীনতা

ঘোষণা ও বিদ্রোহের অভিযোগ এনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে গোপন বিচারের নামে প্রহসন

শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর  বিরুদ্ধে।


নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের

মধ্য দিয়ে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় আসে। এরপর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান

বঙ্গবন্ধু। ’৭২-এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন ভূমিতে পা রাখেন।


সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের

দায়িত্বভার নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন

বঙ্গবন্ধু, যদিও ওই সময়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র থেমে ছিল না।


১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু

জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেন, গঠন করেন বাকশাল; যার

ফলে দেশে অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়, চারটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্য সব সংবাদপত্রও

বন্ধ করে দেওয়া হয়।


তার কিছু দিনের মধ্যে

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট এক দল সেনা কর্মকর্তার হাতে নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু।


যে দেশের স্বাধীনতার

জন্য রাজপথ কিংবা কারাগারে যার জীবন কেটেছে, সেই দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন

বছরের মধ্যে অবসান ঘটে স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়কের; এবং তা বাঙালিরই হাতে।




জাতির জনকের জন্মদিনে নানা কর্মসূচি

ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে সৌদি হুঁশিয়ারি



আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শুরু হবে, বললেন সৌদি প্রিন্স





প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সালসৌদি রাজপরিবারের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পাশ্চাত্যের সঙ্গে আলোচিত চুক্তিটি সম্পাদিত হলে তা পারমাণবিক জ্বালানির উন্নয়নে অন্য আঞ্চলিক দেশগুলোকে উৎসাহিত করবে। প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল বিবিসিকে বলেন, চুক্তিটি হলে সৌদি আরবও একই অধিকার চাইবে। বিবিসি ও রয়টার্সের খবর।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ছয়টি শক্তিধর রাষ্ট্র ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করছে। এর বিরোধিতাকারীরা বলছেন, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে সৌদি-ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে এ অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে।
সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল বলেন, ‘এ আলোচনা যে ফলই বয়ে আনুক না কেন, আমি সব সময়ই বলে আসছি, আমরাও একই সুযোগ চাইব।’ তিনি বলেন, ‘যে স্তরেই হোক না কেন, ইরান যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা পায়, তবে শুধু সৌদি আরবই নয়, আরও অনেকেই এ ক্ষমতা চাইবে।’
ইরানের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে ৩১ মার্চ। আর ওই সময়সীমার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরব গত সপ্তাহেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতাবিষয়ক একটি চুক্তি করেছে।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে নিবৃত্ত করতে পারবে না—এমন কোনো অকার্যকর চুক্তি করা হবে না বলে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক মিত্রদের আবারও নিশ্চয়তা দিতে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রিয়াদ সফরে যান। তখন কেরিকে বলা হয়, এ অঞ্চলের বিভিন্ন সংঘাতে শিয়া মুসলিমদের সংগঠনের প্রতি ইরানের সমর্থন রয়েছে। এটা সমস্যার সৃষ্টি করছে।
প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল বলেন, ‘ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন বা বাহরাইন যে আরব দেশই হোক না কেন, বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ইরান এরই মধ্যে বিধ্বংসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।’
ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত শিয়া-মিলিশিয়াদের প্রতি ইরানের সমর্থন সৌদি আরবের বড় উদ্বেগের কারণ। ইরাকের তিকরিত শহরে চলমান লড়াইয়ে শিয়াদের প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়।
তুর্কি আল-ফয়সাল বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে ইরাকে দখলদারি বাড়াচ্ছে ইরান, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল মার্টিন ডেম্পসি বলেছেন, তিকরিতের লড়াইয়ে ইরানের সহযোগিতা ‘ইতিবাচক বিষয়’ হতে পারে, যদি তা বিভক্তিকে উসকে না দেয়।
ইরানের ঘনিষ্ঠ আরব মিত্র দেশ সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের বিরোধীদের অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করায় রিয়াদ দীর্ঘদিন থেকেই হতাশ। বাশারের পরিবারও শিয়া সম্প্রদায়ের।





ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে সৌদি হুঁশিয়ারি

Test Post from দেশি বার্তা

Test Post from দেশি বার্তা http://www.desibarta.com

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদেশি কূটনীতিকদের বৈঠক; বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দৌড়ঝাঁপ করছেন ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। সমঝোতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন তারা। সবশেষ মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন আমেরিকা, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৬টি দেশের কূটনীতিকরা। বৈঠক শেষে, চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দেশের প্রধান দুই দলকে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক গড়ার আহবান জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক বলেছেন, এই আস্থার অভাবেই নিরাপত্তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। তাই এ দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাজনৈতিক সংঘাত কমানোর মতো আস্থা স্থাপনের প্রয়াসকে উৎসাহিত করছেন তারা। সেইসঙ্গে সব পক্ষের কাছে তাদের অভিন্ন প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরছেন বলে জানান হাইকমিশনার। 
কূটনীতিকদের এমন প্রয়াসকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নুরুল আমিন ব্যাপারি। রেডিও তেহরানকে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন প্রধান দুই দলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যেসব বিষয়ে তারা কথা বলেছেন তাতে গতানুগতিক বক্তব্যই প্রকাশ পেয়েছে। বিদেশীরা হস্তক্ষেপ করছে, এমন অভিযোগ এখানে নতুন নয়, তাই কূটনীতিকরা শক্ত কিছু বলছেন না। কিন্তু এভাবে হবে না, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে চাইলে তাদের আরও শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে। 
এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, ওয়ান/ইলেভেন হবে, এ ধরনের তৎপরতায় সেটা মনে করা যথার্থ নয়। কেননা সবাই চেষ্টা করছে দেশের সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে, যেমন করছে সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন ফোরাম। কেননা সংকট যে সমাধান করতে হবে সেটা কারো না বোঝার কথা নয়। 
তিনি আরও বলেন, যেহেতু প্রতিবারই ক্ষমতার পালাবদলে সংঘাত হচ্ছে, সেহেতু এ নিয়ে স্থায়ী কিছু হওয়া দরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি হওয়া উচিত। তেমনিভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়েও একটা চুক্তি হতে পারে। তবে, কত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি উন্নতি হবে, সে সম্পর্কে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন এ বিশ্লেষক।

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

২৫০০ কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতি মামলার তদন্ত শুরু হচ্ছে


দুদক
নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা প্রতিদিন ডকটম:
অবশেষে রাজধানীর গুলশান এলাকার কড়াইল মৌজায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু  করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


সম্প্রতি কমিশন এ মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে বর্তমানে উপ-পরিচালক আখতার হামিদ ভুইয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে।


জানা যায়, ২০১১ সালের ২ নভেম্বর  দুদকের তৎকালিন উপ-পরিচালক আব্দুল আজিজ ভুইয়া বাদী হয়ে রাজধানীর কড়াইল মৌজায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতির অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে  গুলশান মডেল থানায় মামলা (নং-৭) করেন।


ওই মামলায় আসামি করা হয়, সাব-রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিন, কথিত মালিক নাজমা বেগম, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বি এম ইউসুফ আলী, ব্রোকার আলী আকবর খান,  হোসাইন মামুন, রিচি অটোমোবাইল ও লেক্সাস ভিশনের মালিক মনজুর আহমদ,  গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ  এবং বাচ্চু মিয়া গং।


দুদক সূত্র মতে, গুলশান এলাকার কড়াইল মৌজার  ৬৫ খতিয়ান ভুক্ত ৫০১, ৫০২ ও ৫০৩ নম্বর দাগের ৬ দশমিক ৬৭ একর জমির (৪০৪ দশমিক ৫৮ কাঠা) মালিক বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিঃ (বিটিসিএল)। অর্থাৎ  ওই জমির মালিক বাংলাদেশ সরকার।


কিন্তু ওই জালিয়াত চক্র দুদকের দায়ের করা মামলার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ক্রিমিনাল মিসেলিনিয়াস পিটিশন (নং-৮০৪৪/২০১২) দায়ের করে। তাদের পিটিশনের উপর হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ দুদকের ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিতাদেশ দেন।


আর ওই স্থগিতাদেশের ফলে  ২ বছরের অধিক মামলার তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকে।শুধু তাই নয় দুদকও  রহস্যজনক কারণে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি ।


জানা যায়, জেলা প্রশাসকের দফতরের তথ্য অনুযায়ী  ওই জায়গা সম্পত্তির মূল্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। আর এ মূল্যবান জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ওয়ারিশ দাঁড় করিয়ে জনৈকা নাজমা বেগমের কাছ থেকে ক্রয় দেখিয়ে রেজিষ্ট্রি করিয়ে নেয় ‘পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’ নামে একটি কোম্পানি।


গুলশানের তৎকালিন সাব-রেজিস্ট্রার হেলালউদ্দিন  ২৯৪ কোটি টাকা  মূল্য দেখিয়ে ২০১০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে জমিটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নামে সাফ কবলা রেজিস্ট্রি (দলিল নং- ৯৫৬০) করেন। নাজমা বেগমের অনুকূলে ৯১ কোটি টাকা পরিশোধ দেখান।
পরে আইনমন্ত্রণালয় ওই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের পর অভিযুক্ত  গুলশানের সাব রেজিস্ট্রার হেলাল উদ্দিনকে বরখাস্ত করে।


এদিকে   ২০১২ সালের মার্চে  দুদকের কর্মকর্তারা ওই  মামলার  তদন্ত শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামিরা  হাইকোর্টে আশ্রয় নিয়ে মামলার তদন্ত বন্ধ করে দেয়।


ওই সময় তদন্ত কর্মকর্তা রেকর্ডপত্র চেয়ে আসামিদের চিঠি দিলে তারা চিঠির ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে যায়। ক্রিমিনাল মিসেলিনিয়াস পিটিশন (নং-৮০৪৪/২০১২) দিয়ে একটি ডিভিশন বেঞ্চ থেকে তদন্ত কার্যক্রমের ওপর এক বছরের স্থগিতাদেশ নেন।


২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারিতে নেয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি শেষ হয়। স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হলেও রহস্যজনক কারণে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কমিশন।


ফলে থেমে ছিলো আলোচিত এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম। তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে মঙ্গলবার সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবিএম বায়েজিদকে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে । তিনি শিগগিরই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন জানাচ্ছেন।


একে/তোফা




২৫০০ কোটি টাকার সরকারি জমি জালিয়াতি মামলার তদন্ত শুরু হচ্ছে

ছাদে আমের চাষ | নির্ভীক


blog_w_mangoesআম বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় একটি ফলের নাম । আমকে ফলের রাজা বলা হয় । সারা দেশেই এর চাষ হলেও বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল হল এই আম । বাংলাদেশে অনেক জাতের আমের চাষ হয়ে থাকে । তবে এর মধ্যে ভাল জাতের আমের চাষ রাজশাহী অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ । শহরের বাসিন্দারা ছাদে দুচারটা আম গাছ লাগিয়ে শখ মিটাতে পারেন ।


ছাদের উপযোগী জাতঃ
সব জাতের আমই ছাদে চাষ করা সম্ভব । তবে ফলন বেশী হয় ছাদের জন্য এমন কিছু জাত নির্বাচন করা উচিৎ । এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় বারি আম -৩ জাতটি । গাছ ছোট আকৃতি, ফল মাঝারি এবং খেতে বেশ সুস্বাদু । যার আরেক নাম আম্রপালি । মোটামুটি প্রতিবছরই ফল দেয় বিধায় ছাদে লাগানোর ক্ষেত্রে আম্রপালিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিৎ । তাছাড়াও বাউ আম – ১, ২, ৩, ৬, ৭, লতা বোম্বাই ইত্যাদি বামন জাতের আম ছাদের জন্য বেশ উপযোগী ।


চাষ পদ্ধতিঃ
ছাদে আমের কলমের চারা লাগানোর জন্য ২০ ইঞ্চি কালার ড্রাম বা টব সংগ্রহ করতে হবে । ড্রামের তলায় ৩-৫ টি ছিদ্র করে নিতে হবে । যাতে গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে । টব বা ড্রামের তলার ছিদ্রগুলো ইটের ছোট ছোট টুকরা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে । এবার ২ ভাগ দোআঁশ মাটি, ১ ভাগ গোবর, ৪০-৫০ গ্রাম টি,এস,পি সার, ৪০-৫০ গ্রাম পটাশ সার, ১ কেজি কাঠের ছাই, ১কেজি হাড়ের গোড়া ও হাফ কেজি সরিষার খৈল একত্রে মিশিয়ে ড্রাম বা টব ভরে পানিতে ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে ১৫ দিন । অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে । যখন মাটি কিছুটা ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সুস্থ সবল কলমের চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে । চারা গাছটিকে সোজা করে লাগাতে হবে । সেই সাথে গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু করে দিতে হবে এবং মাটি হাত দিয়ে চেপে চেপে দিতে হবে । যাতে গাছের গোড়া দিয়ে বেশী পানি না ঢুকতে পারে । একটি সোজা কাঠি দিয়ে গাছটিকে বেধে দিতে হবে । চারা লাগানোর পর প্রথমদিকে পানি কম দিতে হবে । আস্তে আস্তে পানি বাড়াতে হবে । টবের গাছটিকে এমন জায়গায় রাখতে হবে যাতে প্রায় সারাদিন রোদ লাগে । (চলবে




ছাদে আমের চাষ | নির্ভীক

বিদ্যালয় থেকে ২৮টি পেট্রলবোমা উদ্ধার



বিদ্যালয় থেকে ২৮টি পেট্রলবোমা উদ্ধার

নওগাঁর মরছিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৮টি পেট্রলবোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।


মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ পেট্রলবোমগুলি উদ্ধার করে পুলিশ।


নওগাঁ সদর থানার (ওসি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


পাএর/এইচজে




বিদ্যালয় থেকে ২৮টি পেট্রলবোমা উদ্ধার

জেনে নিন ,বুধবার ০৪ মার্চ ২০১৫ এর রাশিফল | সময়ের কন্ঠস্বর


dfdfরাশিফল ডেস্ক : অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হয়ে যেতে পারেন দিনের যেকোনো সময়ে। তাই আগে থেকেই থাকুন সাবধান। আজ সারাদিনই সঙ্গে কেউ থাকায় ভালো। চাকরিতে পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা। আর্থিক লেনদেন স্বাভাবিক থাকবে। প্রতিবেশির কেউ আপনার কাজে সাহায্য করতে পারে। পরিবারের লোকের সঙ্গে বড় কোন বিষয়ে একমতে পৌঁছবেন।


বৃষ : পারিবারিক কলহের জের ধরে কিছুটা অশান্তির বাতাস বইবে আজকের দিনে। মাথা ঠাণ্ডা রেখে কর্মক্ষেত্রে চলে যান। আজ সেখানে বড় কোন কাজের দায়িত্ব এসে যাবে আপনার কাঁধে। যা বুদ্ধি আর শ্রম দিয়ে সফল করতে হবে। কারণ এর পেছনেই তো লুকিয়ে রয়েছে আপনার এতোদিনের আশার ফল। বেকারদের কেউ প্রেমের ঝড়ো হাওয়ায় ভাসতে পারেন। বিকেলের দিকে একটি খবর আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। বাবা-মায়ের মন জয়ে আজ আপনাকে কিছু করতে হতে পারে।


মিথুন : মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছেন অনেক কথা। প্রিয় মানুষকে বলতে পারছেন না কিছুতেই। আজই পেয়ে যাবেন মোক্ষম সুযোগ। বেশ কিছু অর্থ আজ আপনার পকেটে ঢুকে যেতে পারে। দিনের প্রথমভাগে এই আনন্দে আপনি থাকবেন অস্থির। অফিসের কেউ সামান্য রসিকতা করতে পারে আপনার ফূর্তির কারণে। আত্মীয় সমাগমে আনন্দের মাত্রা বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। বন্ধুদের কারো জন্মদিন আজ। তাকে শুভকামনা জানাতে ভুলবেন না যেন।


মেষ : অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হয়ে যেতে পারেন দিনের যেকোনো সময়ে। তাই আগে থেকেই থাকুন সাবধান। আজ সারাদিনই সঙ্গে কেউ থাকায় ভালো। চাকরিতে পদোন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা। আর্থিক লেনদেন স্বাভাবিক থাকবে। প্রতিবেশির কেউ আপনার কাজে সাহায্য করতে পারে। পরিবারের লোকের সঙ্গে বড় কোন বিষয়ে একমতে পৌঁছবেন। দুপুরের দিকে এই রাশির জাতক-জাতিকার কেউ পড়াশুনা কেন্দ্র করে দারুন কোনো খবর পেয়ে যাবেন।


কন্যা : হঠাৎ হাত থেকে একটি কাঁচের গ্লাস পড়ে ভেঙে গেলে মনটা সত্যিই ক্ষুন্ন হয়। মন খারাপ না করে ভাবুন তো একবার। এটা আপনার ক্ষতি নাকি বড় কোনো কাজের প্রতি আরও বেশি সচেতন হওয়ার তাগিদ? কর্মক্ষেত্রে যাত্রা শুভ। কাছের মানুষের সান্নিধ্য পাবেন। মীন রাশির জাতক-জাতিকার কেউ বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার তাগিদ আসতে পারে ফোনে।


সিংহ : আপনি স্বভাবেই অনেক সহনশীল। দায়িত্ববোধ আপনাকে সব সময় ব্যস্ত রাখে। পরিবারের কারো শারীরিক অসুস্থতা ভাবিয়ে তুলতে পারে। চাকরি বদলের সুযোগ আসতে পারে। অর্থভাগ্য মন্দ যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে বিপদের দিনে বন্ধুর সাহায্যের হাতে এগিয়ে আসবে। চলাচলের সময় রাস্তা ভালোভাবে দেখে পার হবেন। প্রেমময় হতে পারে আজকের সন্ধ্যাটা।


তুলা : মনের গলিতে বসে বাঁশরীর সুর বাজিয়ে চলেছে কেউ। ঘুম থেকে উঠেই উচাটান মনের অস্থিরতায় ব্যস্ত থাকবেন সারাদিন। খুঁজতে থাকবেন মনের মানুষটিকে। কর্মক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের ছোঁয়া পাবেন। প্রতিবেশির কেউ বেশি খাতির করবে। পাড়ার প্রবীণ ব্যক্তির দোয়া পবেন আজ। অযাচিত কারো সঙ্গে দ্বন্দ্বের সমূহ সম্ভাবনা। বিদেশ যাত্রা শুভ। বাড়ির কাজে চাপ বাড়তে পারে।


বৃশ্চিক: ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রতিদিনই একটি জিনিসের কামনা করেন। আজ সকালেই তার দেখা পাবেন। পারিবারিক কলহের সমাধান হবে। ধার দেয়া অর্থ ফেরত পাবেন সন্ধ্যার মধ্যেই। আর্থিক লেনদেন শুভ। বন্ধুদের কারো শারীরিক অসুস্থতা আপনাকে ভাবিয়ে তুলতে পারে। সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানে কারো সঙ্গে পরিচয় হবে। যা আপনার মনে রোমান্সের সৃষ্টি করবে। তার সঙ্গে সেলফি তোলারও সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন। বেকারদের কেউ চাকরির চরম প্রস্তুতিতে আছেন। তবে জেনে রাখুন ভালো কিছু করতে আরও সাধনার প্রয়োজন।


ধনু : সকালে ঘুম উঠেই পেয়ে যাবেন কোনো সুখবর। চনমনে মনে ছুটে চলুন কর্মক্ষেত্রে। বসের নেকনজর রয়েছে আপনার ওপর। তবু সামনের পরে একটু ঝাড়ি দিতে পারে আজ। কিছু মনে না করে কাজে মন দেয়ায় ভালো। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটু দেখেশুনে পার হোন। সহকর্মীর কোনো কথায় মেজাজ চরমে উঠতে পারে। নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে শান্ত ভাবে বুঝিয়ে দিন আপনি এসব কেয়ারই করেন না। বেকারদের কেউ চাকরির সন্ধান পেয়ে যাবেন। কাজের চাপে সঙ্গীর খবর নিতে ভুলবেন না।


মকর : জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই জরুরি। জীবনের ঠিক এই সময়ে আপনার তীক্ষ্ণ বিচারবোধ খুবই কাজে আসবে। আজ প্রিয় মানুষের সঙ্গে কিছুটা মনোমালিণ্য দেখা দিতে পারে। বন্ধুর কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেড়াতে যাবার সুযোগ এসে যেতে পারে। আজ কোনো জ্ঞানী লোকের সঙ্গে পরিচয় হবে। বিনিয়োগ লাভজনক হবে। শত্রু সম্পর্কে সাবধান থাকুন।


কুম্ভ : অকারণেই বন্ধুর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। পরিবারের কারো সাফল্যে আপনার মনটা ভালো হয়ে যাবে। কর্মক্ষেত্রে ভালো কাজের জন্য স্বীকৃতি পাবেন। ঘরের জিনিসের প্রতি একটু খেয়াল রাখবেন। প্রতিবেশির সঙ্গে বিবাদের সুরাহা হবে। বেকারদের কেউ ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রিয় মানুষ আজ কোন সারপ্রাইজ দিতে পারে।


মীন : আপনার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে বন্ধু মহলে। সবার প্রতি আপনার ভালোবাসাও অনেক। কারো বাসায় দাওয়াত খেতে যেতে হতে পারে। কারো কাছ থেকে উপহার পেতে পরেন, যা আপনার মনকে অনেক ভালো করে দিতে পারে। আর্থিক লেনদেনে সাবধান থাকুন। আপনার অংশীদারের মতিগতি ভালো ভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। বেকারদের কেউ বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন। প্রেমের সম্পর্কে উন্নতি হবে।


কর্কট : চেষ্টা করলে অনেক কিছুই সম্ভব। আপনার আছে আত্মসম্মান আর প্রচেষ্টা। তার সবটুকু কাজে লাগানোর সময় এসেছে আজ। ফোনে আজ একটু বেশিই ব্যস্ত থাকবেন। বন্ধুদের কারো জন্মদিনে অংশগ্রহণ করতে হতে পারে। সঙ্গীর মন তুষ্ট রাখতে কোথাও বেড়াতে যেতে হতে পারে। দূরযাত্রায় একটু সাবধান থাকুন। আজকের দিনে কোনো বন্ধুর সঙ্গে অনেকদিন পর দেখা হবে।




জেনে নিন ,বুধবার ০৪ মার্চ ২০১৫ এর রাশিফল |
সময়ের কন্ঠস্বর

শেহজাদ-সোহাইলে এগোচ্ছে পাকিস্তান | | Samakal Online Version






প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৫, ০৭:১৮:২৯ | আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৫, ০৮:১৭:২০অ-অ+
printer


শেহজাদ-সোহাইলে এগোচ্ছে পাকিস্তান



অনলাইন ডেস্ক





টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। চতুর্থ ওভারেই মানজুলা গারাজের বলে লং অনে ক্যাচ আউট হন নাসির জামশেদ। 


 


এর আগে টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নিয়েছেন আরব আমিরাত অধিনায়ক মোহাম্মদ তৌকির।



 


গ্রুপ পর্বে প্রথম তিন ম্যাচে পাকিস্তান ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে গেছে। সর্বশেষ ম্যাচে জিতেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তবে তিন ম্যাচের একটিতেও জেতেনি আরব আমিরাত।


 


আজ দু’দলই সর্বশেষ ম্যাচের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে নেমেছে।


 






শেহজাদ-সোহাইলে এগোচ্ছে পাকিস্তান | | Samakal Online Version

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের মিছিল


ডেস্ক রিপোর্ট




ঢাকা: লাগাতার অবরোধের সঙ্গে ২০-দলীয় জোটের ডাকা হরতালের শেষদিন মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।



সংশ্লিষ্ট ছবিসহ ঢাকা মহানগর জামায়াতের প্রচার সহকারী এম আলাউদ্দিন আরমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০-দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এসব মিছিল করা হয়েছে।



এতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল আটটায় রাজধানীর মালিবাগে মিছিল ও সমাবেশ করেছে রমনা জামায়াত। জামায়াতের ঢাকা মহনগরীর মজলিসে শূরার সদস্য ড. আহসান হাবীবের নেতৃত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- রমনা থানা জামায়াতের অফিস সম্পাদক ইউসুফ আলী, জামায়াত নেতা মাহবুবুর রহমান, ছাত্রনেতা মুরাদ হোসেন প্রমুখ।



মঙ্গলবার সকাল সাতটায় রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। মিছিল শেষে মিরপুর-১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য লস্কর মুহাম্মদ তসলিম।



আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত নেতা আশরাফুল আলম, জামালউদ্দিন, হাজি মহসিন, শাহিন আলম, ইকবাল হাসান, নেসার আলী, ছাত্রনেতা সাব্বির হাসান, মো. সালাউদ্দিন প্রমুখ।



সকাল আটটায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করেছে জামায়াতে ইসলামী মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানা। ঢাকা মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য শফিউর রহমানের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত নেতা মো. উজায়ের, হাসান তারিফ, রবিউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম, ফেরদাউস আলম প্রমুখ।



সকাল সোয়া সাতটায় রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলটি ইসলামবাগ থেকে ওয়াটার ওয়ার্কস রোড হয়ে চকবাজার গিয়ে শেষ হয়।



ঢাকা মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য মো. আল আমীনের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত আমির আবু নাঈম, জামায়াত নেতা আবু হানিফ, মো. মোজাম্মেল, মো. রফিকুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন, শিবির নেতা মো. হিমেল, আশরাফ হোসেন, আসলাম হোসেন প্রমুখ।



মতিঝিল থানার উদ্যোগে মতিঝিলে সকালে মিছিল করেছে ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। থানা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ কামাল হোসাইনের নেতৃত্বে মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- কর্মপরষিদ সদস্য নুর মোহাম্মাদ, ওয়ার্ড সভাপতি জসিমুল হক পাটোয়ারী, জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসনে, হাফিজুল্লাহ খান, মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রনেতা জুয়েল প্রমুখ।



সকাল সাতটায় রাজধানীর শ্যামপুর ব্রিজ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত নেতা এন আহমদ, মহিউদ্দিন, কামরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, আবুল কাসেম ভূইয়া, ফরিদউদ্দিন, জায়নুল আবেদিন প্রমুখ।



সকাল সাতটায় রাজধানীর ডেমরা রানিমহল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান, আবু হানিফ, এনামুল হক, আরিফ হোসেন, আবুল কাসেম, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।



সকাল সাড়ে ছয়টায় রাজধানীর উত্তরা-১২ নম্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ২০-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামী উত্তরা (পশ্চিম) থানার ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল্লাহ রেজা, জামায়াত নেতা আবু সা’দ, তরিকুল ইসলাম, তাজউদ্দিন, ইমারত হোসেন প্রমুখ।




রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের মিছিল

অগ্নিঝরা মার্চ | সকালের খবর



বিশেষ প্রতিনিধি :
দেশমাতৃকাকে হানাদারমুক্ত করতে দৃপ্ত শপথে বলীয়ান পুরো বাঙালি জাতি। একাত্তরের মার্চের এই দিনে স্বাধিকার চেতনায় শাণিত বাঙালি ছিল আন্দোলনমুখর। বাংলাদেশ তখন বিদ্রোহ-বিক্ষোভে টালমাটাল, বীর বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।  একাত্তরের ৪ মার্চ ছিল দেশজুড়ে লাগাতার হরতালের তৃতীয় দিন। সারাদেশে পূর্বঘোষিত আট ঘণ্টার হরতাল পালিত হয় সর্বাত্মকভাবে। আর ‘রেডিও পাকিস্তান’ পরিণত হয় ‘বাংলাদেশ বেতারে’। বেতার ও টেলিভিশনে হরতালের সমর্থনে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হতে থাকে। খুলনা ও রংপুরে কারফিউ বহাল থাকলেও ঢাকায় তুলে নেওয়া হয়। দ্রোহ-ক্ষোভে বঞ্চিত শোষিত বাঙালি তখন ক্রমেই ফুঁসে উঠছিল ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসক-শোষকদের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে বসে নেই কুখ্যাত পাকিস্তানি বাহিনী। তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররাও বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন নস্যাত্ করতে তত্পর। কারফিউ দিয়েও সামরিক জান্তারা বীর বাঙালিদের ঘরে আটকে রাখতে না পেরে গোপনে আঁটতে থাকে কতটা নৃশংস ও নিষ্ঠুরভাবে বাঙালি নিধন করা যায় সে পরিকল্পনা। শুধু অপেক্ষা করতে থাকে ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কী বলেন।


আন্দোলনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা দফায় দফায় বৈঠকে বসেন ৭ মার্চের জনসভা সফল করার জন্য। তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) চলতে থাকে জনসভার প্রস্তুতি। পাশাপাশি ঢাকাসহ সারাদেশেই গঠন হতে থাকে সংগ্রাম কমিটি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুব ও ছাত্র নেতারা গোপনে নানা স্থান থেকে অস্ত্র সংগ্রহ অভিযান চালাতে থাকেন বেশ জোরেশোরেই।


একাত্তরের এই দিনে অর্থাত্ ৪ মার্চ, ১৯৭১ ক্ষুব্ধ বাঙালির মিছিলে মিছিলে ঝাঁঝালো স্লোগানে প্রকম্পিত ছিল সারাদেশ। মূল স্লোগান ছিল ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ।’ এদিন খুলনায় হরতাল পালনকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় বহু মানুষ আহত হয়। ঢাকায় গত দুই দিনে গুলিতে আহতদের মধ্যে অনেকের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়। দুই দিনে ঢাকায় মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয় মোট ১২১ জন। যশোরে পাকসেনাদের গুলিতে শহীদ হন মিছিলে অংশগ্রহণকারী চারুবালা ধর।


জনতা তার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তোলে। চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অবাঙালিদের অব্যাহত আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ৩ ও ৪ মার্চ-এ দু’দিনে এখানে ১২০ জন শহীদ এবং ৩৩৫ জন আহত হয়। সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল, সভা-সমাবেশ ও শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানা ইপিআর ব্যারাকের বাঙালি জওয়ানরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের মাধ্যমে রাজপথের মিছিলকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। দেশের সর্বত্র বেসামরিক প্রশাসন অচল হয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ‘দৈনিক পাকিস্তান অবজারভার’ পত্রিকার গণবিরোধী ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্বিচারে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এক গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমআর সিদ্দিকী স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ঢাকায় জাতীয় লীগের এক জরুরি সভায় অলি আহাদ অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান।


মওলানা ভাসানী এক বিবৃতিতে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সাত কোটি বাঙালির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দাবি জানান।  বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে শোষণ ও ঔপনিবেশিক শাসন বজায় রাখার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বানে দেশের প্রতিটি মানুষ যে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছে সে জন্য বীর জনতাকে অভিনন্দন জানান। ৪ মার্চ রাত ১১টায় রাও ফরমান আলী বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে তার কাছে কতিপয় প্রস্তাব নিয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু তা প্রত্যাখ্যান করেন। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এসএম আহসান এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের চলমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলে তাকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে তার স্থলে লে. জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টেলিফোন মারফত এ তথ্য জানতে পেরে তিনি এদেশ থেকে বিদায় নেন এবং বিদায় নেওয়ার প্রাক্কালে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। অন্যদিকে করাচিতে ভুট্টো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের সংহতির জন্য তার দল যতদূর সম্ভব হয় ছয় দফার কাছাকাছি যাওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।


মুসলিম লীগের (কনভেনশন) সাধারণ সম্পাদক এএনএম ইউসুফ ১০ মার্চ সংসদের অধিবেশন ডাকার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্রতি আহ্বান জানান। জমিয়তুল উলামা-ই ইসলামের নেতা মাওলানা গোলাম গাউস হাজারভি পিপিপি নেতা ভুট্টোর সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত না থাকার জন্য হুমকির কঠোর সমালোচনা করেন। বেলুচিস্তান ন্যাপ (ওয়ালি) জাতীয় সংসদ অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে সমগ্র বেলুচিস্তানে ১২ মার্চ হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।




অগ্নিঝরা মার্চ | সকালের খবর

সাজঘরে নাসির, পাকিস্তান ৪১/১ | Arthosuchak


বিশ্বকাপের ১১তম আসরের ২৫তম ম্যাচে নেপিয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করছে পাকিস্তান। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটের বিনিময়ে ৪১ রান।


নাসির জামশেদের উইকেট পাওয়ার আমিরাতের উল্লাস

নাসির জামশেদের উইকেট পাওয়ার আমিরাতের উল্লাস



আহমেদ শেহজাদ ২০ ও হারিছ সোহাইল ১৪ রানে ব্যাট করছেন।


দলীয় ১০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪ রানে মানজুলা গৌরজের বলে খুররাম খানের হাতে তালুবন্দি হয়ে ফিরেছেন নাসির জামশেদ।


সংযুক্ত আরব আমিরাত স্কোয়াড:
মোহাম্মদ তৌকির (অধিনায়ক), আমজাদ আলী, এআর বেরেনগার, কৃষ্ণ চন্দ্রন, খুররাম খান, স্বপ্নিল পাতিল, সাইমান আনোয়ার, রোহান মুস্তাফা, মোহাম্মদ নাভেদ, আমজাদ জাভেদ ও মানজুলা গৌরজ।


পাকিস্তান স্কোয়াড:
মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক), আহমেদ শেহজাদ, নাসির জামশেদ, হারিছ সোহাইল, সোয়াইব মাকসুদ, উমর আকমল, শহীদ আফ্রিদি, ওয়াহাব রিয়াজ, সোহাইল খান, রাহাত আলী এবং মোহাম্মদ ইরফান।




সাজঘরে নাসির, পাকিস্তান ৪১/১ | Arthosuchak

'জিহাদিদের যৌন আবেদনে' আকৃষ্ট ব্রিটিশ মেয়েরা


islamic state


ইসলামিক স্টেট

অল্পবয়েসী ব্রিটিশ মুসলিম তরুণীরা কেন জিহাদিদের সাথে যোগ দেবার জন্য সিরিয়ায় যাচ্ছে?


একজন তরুণী বিবিসির নিউজনাইটকে বলেছেন, ইউটিউবে প্রচারণামূলক ভিডিওতে দেখা ‘জিহাদিদের যৌন আবেদন’ তাদের উগ্রপন্থায় আকৃষ্ট হবার পেছনে একটা বড় কারণ।


গত কয়েক মাসে বেশ কিছু ব্রিটিশ তরুণী জিহাদিদের সাথে যোগ দেবার জন্য তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় গেছে। সবশেষ দুজন বাংলাদেশী-বংশোদ্ভূত স্কুলছাত্রীসহ পূর্ব লন্ডনের তিন তরুণীর সিরিয়ায় চলে যাবার খবর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।


কেন এই তরুণীরা উগ্রপন্থার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাব দিতে বিবিসির সাথে কথা বলেছেন আয়েশা নামের মধ্য ইংল্যান্ডের বাসিন্দা একজন ব্রিটিশ তরুণী যিনি নিজেও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইসলামী উগ্রপন্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।


is british girls


সিরিয়ায় চলে যাওয়া তিন ব্রিটিশ তরুণী

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, ইসলামিক স্টেট তাদের যোদ্ধাদের শারীরিক আকর্ষণকে তরুণী মেয়েদের আকৃষ্ট করার জন্যবিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করতে অনাগ্রহী নয়।


আয়েশা নিউজনাইটকে বলছেন, তার যখন বয়েস ১৬-১৭ তখন তিনি ইসলামিক স্টেট নয়, বরং তার পূর্বসূরী আল-কায়েদা বা আল-শাবারের ভিডিও দেখতেন এবং সেগুলোকে তার খুবই ‘আকর্ষণীয়’ এবং ‘গ্ল্যামারাস’ বলে মনে হতো।


“আমার মনে হতো, আমি তো এমন একজনকে পেতে পারি যে আমার নিজ ধর্মের – কিন্তু আবার ভিনদেশী – ব্যাপারটা খুবই উত্তেজনাকর। যাকে বলা যায়, অজানার আকর্ষণ।”


“তার পর ফেসবুকে হয়তো এমন একজন লোকের ছবি দেখলাম যে শহীদ হয়েছে, দেখে আমার মনে হতো – হায়, এই লোকটিকেই তো আমি অন্য একটি ভিডিওতে দেখেছি – আর এখন সে মারা গেছে!”


is_amwazi_jihadi john


ব্রিটিশ পত্রপত্রিকায় ‘জিহাদি জন’

আয়েশা বলেন, তখন এমন অনুভূতি হতো যে ‘মারা যাবার আগেই এমন একজন লোককে পেতে হবে’।


“মনে হতো, তাহলে তিনি মারা যাবার পর তার সাথে বেহেশতে দেখা হবে” – বলেন তিনি।


তিনি আরো বলেন, ব্রিটেনে ইসলামী নেতারা তাদের বক্তৃতায় এই দেশকে বিধর্মী, শত্রু, এবং মুসলিম-হত্যাকারী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন। “বলা হয় এই রাষ্ট্র ও পুলিশকে বিশ্বাস না করতে এবং সরকারি স্কুলে ছেলেমেয়েদের না পাঠিয়ে ইসলামী স্কুলে পাঠাতে। সালাফি ও ওয়াহাবীরা মনে করে যে ব্রিটেন একদিন শরিয়া রাষ্ট্র হবে। তারা অমুসলিম ব্রিটিশ মেয়েদের নিয়ে বিদ্রুপ করে।”


তবে আয়েশা বলেন, “আমি যে ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্য ছিলাম, তারা ধর্মের সীমার ভেতরে নারীপুরুষের সাম্য উৎসাহিত করতে চাইলেও – কোন কোন ক্ষেত্রে তারা যে নারীদের প্রতি সুবিচার করতে পারছে না এটা আমি দেখতে পেতাম। তা ছাড়া আরেকটি ব্যাপার ছিল যে অমুসলিমদের হত্যা করতে হবে। প্রধানত এ দুটি জিনিসই আমাকে এই পন্থা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে।”


আয়েশা আরো বলেন, ‘জিহাদি জন’ বলে পরিচিত মোহামেদ এমওয়াজিকেও তার পুরোনো বন্ধুরা একজন আদর্শ হিসেবে দেখে বলেই তিনি মনে করেন।




'জিহাদিদের যৌন আবেদনে' আকৃষ্ট ব্রিটিশ মেয়েরা

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার



রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বেসরকারি একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চাকরিচ্যুত সাংবাদিক কনক সারওয়ারকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। টিভি চ্যানেলটির চেয়ারম্যান আবদুস সালামও একই মামলার আসামি। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
গত ৪ জানুয়ারি রাতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০ মিনিটের একটি বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করে ইটিভি। এরপর ৬ জানুয়ারি ভোরে কারওয়ান বাজারে ইটিভির কার্যালয়ের নিচ থেকে আবদুস সালামকে ধরে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ৭ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, একুশে টিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালামসহ আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মামলার আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারেক রহমান প্রধান বিচারপতির প্রতি অবজ্ঞা, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন।
ডিবি সূত্র জানায়, কয়েক দফা রিমান্ড শেষে আবদুস সালাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার সঙ্গে ইটিভির সাংবাদিক কনক সারওয়ার জড়িত আছেন বলে উল্লেখ করেন।





রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ইউনিট


বুধবার, মার্চ ৪, ২০১৫ ১২:৩৭ এ.এম


police

স্টাফ রিপোর্টান, দেশের বার্তা.কম


ঢাকা: পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এক মাসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি স্থায়ী বিশেষ ইউনিট বা কমিটি গঠন করবে। কমিটিতে থাকবেন বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধিরা।


মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর মামলাসহ অন্যান্য মামলার তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ পুলিশের মাধ্যমেই তদন্ত হওয়ায় ন্যায় বিচার নিয়েও আপত্তি ওঠে। আবার অধিকাংশক্ষেত্রে তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। অতীত সময়ে পুলিশের করা তদন্ত নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করতে বিশেষ এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গঠিত হওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুলিশের পরিবর্তে কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘অতীতে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করে আসছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্থায়ী বিশেষ ইউনিট বা কমিটি করা হবে।’


দেশের বার্তা/মাআসা




পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ইউনিট

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৬ কূটনীতিকের বৈঠকঃ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোগ



মার্চ ০৩



অপরাহ্ন ১১:২০
মঙ্গলবার ২০১৫





1নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাটসহ ১৬টি দেশের কূটনীতিকরা। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে অষ্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ ইউলকক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসময় তিনি একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান। এতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমাদের দেয়া পূর্বের বিবৃতি এবং জাতিসংঘ প্রদত্ত বিবৃতিগুলো উদ্বৃত করে আমরা চলমান সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা আস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে পদেক্ষপ নিতে উতসাহ দিয়েছি। একইসঙ্গে বাংলাদেশে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, প্রগতি, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশের বন্ধু এবং অংশীদার হিসেবে, আমরা বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগকে স্বাগত জানাই। আমরা সকল পক্ষের প্রতি আমাদের অভিন্ন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা অব্যাহত রাখবো।


সন্ধ্যা পৌনে ৭টার সময় রাষ্ট্রদূতরা একটি মাইক্রোবাসে করে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইতালী, ফ্রান্স, জার্মান, জাপান, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে,কোরিয়া, স্পেন,সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার দূতরা ছিলেন।




খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৬ কূটনীতিকের বৈঠকঃ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোগ

রিয়েল এস্টেট জার্নালিস্ট ফোরামের যাত্রা শুরু


স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলো সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন রিয়েল এস্টেট জার্নালিস্ট ফোরাম (আরইজেএফ)।


সম্প্রতি  রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে মাই টিভির সি এম আমিনুল মজলিশকে সভাপতি এবং বাংলাভিশনের রিশান নাসরুল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে একটি কমিটি চূড়ান্ত করা হয়।


এই কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শাহ আলম নূর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিনের রুহুল আমীন রাসেল, সাংগঠনকি সম্পাদক এটিএন নিউজের গোলাম কাদির রবু, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাবের মাইনুল হাসান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ পদে নতুন বার্তা ডটকমের এস এম এ কালাম এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনোনয়ন করা হয়েছে চ্যানেল-নাইনের ফরহাদ হোসেনকে।


এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চ্যানেল-২৪ এর ফারুক মেহেদী, দৈনিক নয়া দিগন্তের জিয়াউল হক মিজান, এটিএন বাংলার মোরশেদ আলম, এনটিভির হাসানুল  শাওন, যমুনা টিভির সুশান্ত  সিন্হা, দৈনিক বণিক বার্তার জেসমিন মলি এবং দৈনিক সমকালের মিরাজ শামস্।


সংগঠনের সদস্য পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে রিপোর্টিংয়ের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিকেও বিবেচনায় আনা হবে। সদস্যদের এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত মানন্নোয়নে কাজ করে যাবে সংগঠনটি। সভায় উপস্থিত ছিলেন আবু আলী(দৈনিক আমাদের সময়ের), এস এম এ কালাম(নতুন বার্তা ডটকম), রহিম শেখ (দৈনিক জনকণ্ঠ), গৌতম ঘোষ (দৈনিক সংবাদ), এম এন আখতার (দৈনিক সংগ্রাম), সাখাওয়াত সুমন (আলোকিত বাংলাদেশ), এম এম মাসুদ (মানবজমিন), মিজানুর রহমান (ডেইলি অবজারভার), ওবায়দুর রহমান (ভোরের কাগজ), শেখ নাসির হোসেন( বাংলানিউজ২৪ডটকম) আতিক বাবু (দেশ টিভি), সাজ্জাদ বিপ্লব (এসএ টিভি), নীলা হাসনাত (এশিয়ান টিভি), ইমতিয়াজ আহমেদ (সময় টেলিভিশন), বিপ্রজিত বাপ্পা (মোহনা টেলিভিশন) ও  সেজান (একাত্তর টেলিভিশন)।




রিয়েল এস্টেট জার্নালিস্ট ফোরামের যাত্রা শুরু

সংলাপ হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী


tofayel


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি


ঢাকা প্রতিদিন ডটকম:
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপির সাথে কোন সংলাপ হবে না। আল কায়েদা ও আইএস এর জঙ্গিদের সাথে যেমন কেউ সংলাপ করছে না। তেমনি  সন্ত্রাসী দল বিএনপির সাথেও কোন সংলাপ হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোন নির্বাচনও হবে না।


মঙ্গলবার বিকালে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে ২৩তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সংলাপের আমন্ত্রণ জানালেও কঠিন ও কর্কশ ভাষায় তা প্রত্যাহার করেছেন খালেদা জিয়া। খালেদা শুধু নির্বাচন বর্জনই করেননি, ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা ৫শ স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। ২৪ জন পুলিশ সদস্য ও কয়েকজন নির্বাচন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিলেন।


তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন না করতে পারলে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা নিত। থাইল্যান্ড যথাসময়ে নির্বাচন করতে পারেনি বলে সেখানে সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়েছে।


তোফায়েল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম চেম্বার। আমদানি-রপ্তানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রামের আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী অনেক কাজ হাতে নিয়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজ চলতি বছর শেষ হবে।


আনোয়ারা ও মিরসরাইয়ে শিল্পাঞ্চল হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত এর সাথে গত ১মার্চ এ সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এছাড়া জাপানও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। তাদেরকে মিরসরাইয়ে বিনিয়োগ করার জন্য বলা হয়েছে।


কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএমজি টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটার কাজ শেষ হলে ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা যাবে। এই গ্যাস চট্টগ্রামের কারখানাগুলো পাবে। চা সচিবালয় চট্টগ্রামেই থাকবে।


খালেদা জিয়া বার বার পরাজিত হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে ও ২০১৪ সালে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির হাতে পরাজিত হয়েছেন খালেদা। ২০১৫ সালে এসেও তিনি পরাজিত হবেন।


সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, গ্যাসের কারণে চট্টগ্রামে নতুন কোন শিল্প কারখানা হচ্ছে না। ৪শ ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে চট্টগ্রামে ২শ ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া কম্প্রেসারও কম।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালধর, রাশিয়ান কনসুল জেনারেল মি. ওলেক, চেম্বারের পরিচালক, সাবেক পরিচালক, ব্যবসায়ীসহ বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।


এফ এ আরিফ




সংলাপ হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

খালেদা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চান : কৃষিমন্ত্রী


motia‘খালেদা জিয়ার ডাকা চলমান অবরোধ ও আন্দোলনের সঙ্গে বিদেশী শক্তি জড়িত’ বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নকে খালেদা জিয়া বাধাগ্রস্থ করছেন।


মঙ্গলবার দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া চান বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো আগুনের কাবাব হয়ে যাক। তা না হলে কেমন করে তিনি পেট্রোল বোমাকে উৎসাহিত করেন। এ আন্দোলনের সঙ্গে বিদেশীর যোগসাজশ পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। এ আন্দোলনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরাজিত শক্তি জড়িত। তারা মুক্তিযুদ্ধের বদলা নিতে চায়। এরা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র ও জঙ্গীবাদের হাব বানাতে চায়।’


মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের তখন খালেদা জিয়া উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ এবং এ দেশকে তছনছ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে পরীক্ষা ভ-ুল, পেট্রোল বোমা, অবরোধ ও হরতালসহ ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। পেট্রোলবোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে অনেক মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে ২০ দলীয় ঐক্যজোট। এর নেতৃত্বে রয়েছেন পাকসখী খালেদা জিয়া।


তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে জানুয়ারি থেকে এ তা-বলীলা চালাচ্ছেন খালেদা। নিজেকে অবরুদ্ধ ও নাটকের নায়িকা হওয়া ছাড়া দেশবাসীকে আর কিছু উপহার দিতে পারছেন না। তারা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসীদের তীর্থ ভূমি বানাতে চায়।




খালেদা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চান : কৃষিমন্ত্রী

কোকোর কুলখানি: দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া



কোকোর কুলখানি: দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর চেহলাম উপলক্ষে বুধবার গুলশান কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে দলটি।


চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান রাতে সাংবাদিকদের টেলিফোনে এই কথা জানিয়ে বলেন, ‘‘গুলশান কার্যালয়ে বুধবার সকাল থেকে কুরআনখানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর দোয়া মাহফিল হবে।’’


এছাড়া সারাদেশে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার জন্য দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।


গত ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মরদেহ ২৭ জানুয়ারি দেশে এসে বনানীতে দাফন করা হয়।


গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকায় খালেদা জিয়া ওইসময়ে তার ছোট ছেলের কুলখানি করতে পারেননি। কোকোর মৃত্যুদিন থেকেই গুলশান কার্যালয়ে প্রতিদিন কুলখানি ও দোয়া মাহফিল হচ্ছে। এই চেহলামের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি হবে।


এমকে/এইচজে




কোকোর কুলখানি: দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

মেঘশিল্পী : পরম্পরায় কবি-ছড়াকার আলম তালুকদার


চয়ন সেনগুপ্ত


কবির হৃদয়জুড়ে থাকে সহস্র সাহসী বিশ্বাস। অন্তর্লোকে শুরু হয় তুমুল তোলপাড়। তার  অন্তর্দৃষ্টির আলোর নাচন ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতির পরতে পরতে। তার মানবিক বোধের কর্ষণে তৈরি হয় প্রেম-প্রীতি-ভরসার অমিয় বন্ধন। কবি তখন হয়ে উঠেন নিরন্তর হয়ে উঠার বিধাতা। কবি হলেন ব্যথার এবং বোধনের বিধি। তার কষ্টে, তার সঙ্গ-নিঃসঙ্গতায় পাখি ও প্রকৃতি, মেঘ-বৃষ্টি, আকাশ-বাতাস, তীর ও তেপান্তর, নদী ও নারী, মানুষের মন ও  মাটি, সকল কিছু আপন হয়ে, বন্ধু হয়ে, দূত হয়ে কবির পাশে দাঁড়ায়। কবি কালিদাসের মেঘদূত কাব্যে আমরা দেখতে পাই জলভারনত মেঘের সঙ্গে কবির বিরহ-বন্দনার গভীর সম্পর্ক। কালে কালে মেঘের অনুষঙ্গে, উপমায় কবির লেখনী হয়ে উঠে নানারঙে রাঙানো শৈল্পিক তুলির উদ্ভাস। আকাশ, বাতাস আর আলোর ঝলকানিতে মেঘ যখন হাজার রূপের রোশনাই ছড়ায়, মেঘ যখন জোসনার এবং সন্ধ্যার বাতাস তাড়িত-মেঘমালা হয়, কবিরা তখন সংগোপনে কথা বলেন। এ কথা অনর্গল চলে মেঘের সাথে। সন্ধ্যায়, সকালে, ভর দুপুরে, শাণিত ধবধবে চাঁদনী রাতে, ঝড়ো বাতাসে, বৃষ্টিতে মেঘের নানা গড়নে ও রঙে কবিদের হৃদয়-মন উতলা হয়ে উঠে। বিনির্মাণ চলতে থাকে অন্তর-বাইরে। একটা পাখির মৃত্যুদৃশ্যের আচমকা শোকে রামায়ণের বাল্মীকি শোকগাথা রচনা করেছিলেন। আবার অশোক বনে বন্দিনী সীতার বিরহে রামচন্দ্র যখন ব্যাকুল, সেই বিরহ-বিচ্ছেদের অনুষঙ্গে বাল্মীকি পর্বতের মাথায় বিছানো সাদা মেঘদলকে উত্তরীয় বলেছিলেন। কবি কালিদাস অন্ধ-কামজ বেদনায় যক্ষের বয়ানে অলকাপুরীতে যক্ষপ্রিয়ার নিকট আর্তনাদের বার্তা পৌঁছাতে জলভারনত মেঘকে বাহন করেছেন। আষাঢ়ের প্রথমদিনে পূর্বমেঘ থেকে উত্তরমেঘ অবধি কবির অজস্র আকুতি। রামগিরিতে দাঁড়িয়ে নির্বাসিত যক্ষ মেঘের জন্ম নিয়ে বলছেন……


‘হে মেঘ জানি আমি ভুবনবিশ্রুত তুমি যে পুষ্কর-আবর্তের 


বংশোজাত, আর সেবক ইন্দ্রের, ইচ্ছেমতো নাও নানা রূপ।’


এই পুষ্কর-মেঘ হলো জলভারনত স্ফীত মেঘ। কবি এমন স্ফীত ঐরাবত তুল্য মেঘদলকে সখ্যতায় সতকর্তায় সঞ্চালন করেছেন।


বাংলাসাহিত্যে কাব্যে, কবিতায়, ছড়ায়, ছোট গল্পে, গদ্যেকবি, ছড়াকার এবং ঔপন্যাসিকগণ মানুষের দুঃখ-বেদনা-কান্নার আবহ-অনুষঙ্গকে মেঘের হাজার রূপের সঙ্গে মিশিয়ে প্রকাশ করেছেন। প্রাচীন সাহিত্য থেকে আধুনিক সাহিত্য। মহাকবি বাল্মীকি থেকে কালিদাস। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবি-ছড়াকার সুকুমার রায় থেকে আলম তালুকদার মেঘের সঙ্গে সম্পর্ক পরম্পরায় সকলে যেন একসূত্রে গাঁথা। রবীন্দ্রনাথ যখন মেঘকে সঙ্গী করেন, সমস্ত পৃথিবীকে মেঘলোকে উধাও করেন, অপেক্ষার দুয়ারে বসে বসে মেঘের পরে মেঘ জমান, সেসময় কবি-ছড়াকার সুকুমার রায় তার ছড়ায় মেঘের মরণকে আবিষ্কার করেন। আর আলম তালুকদার তার ছড়ায়-ছন্দে তখন যাদুকর মেঘের পদাবলী রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন তার প্রায় সমগ্র সৃষ্টিতে হয়ে উঠেছেন মেঘশিল্পী। ইংরেজ কবি পি.বি. শেলী এবং উইলিয়াম ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ দু’জনের মেঘ নিয়ে দুটি অমর কবিতা রয়েছে। তারাও মেঘের বংশ হয়েছেন। বৃষ্টি, মেঘ আর বাতাসে মিশে একাকার হয়েছেন। পি.বি. শেলীর রচিত “ঞঐঊ ঈখঙটউ” এবং উইলিয়াম ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ রচিত ….. “ I WANDERED LONELY AS A CLOUD


মেঘের বর্ণনায় পি.বি. শেলী লিখেছেন যে,


Iam the daughter of Earth and Water,And nursling of the Sky,


I pass throughthe poresof the ocean and shores,


I change but Icannot die.


রোমান্টিক কবি ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ নির্ভার মেঘ হয়ে ভেসে ভেসে দশ হাজার ফুটন্ত সোনামাখা ড্যাফোডিল, পাহাড় চূড়া, মানুষের ভিড়, ঝিক্মিক্ তারা, নদীর ঢেউ দু’চোখ ভরে দেখতে দেখতে সানন্দে বলেছেন  


I gazed and gazed but little thought 


What wealth the show to me had brought:


আবার মেঘশিল্পী রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে, মেঘ হলো গগনচারী, স্বাধীন এবং কখনো কখনো আকাশের নকিব। তার ‘গৃহত্যাগী মন মুক্তগতির মেঘপৃষ্ঠে আসন নিয়েছে।’ কবির দগ্ধ মেঘ, রঙের পরে রঙ মাখানো মেঘ, গুরু গুরু মেঘ, শ্রাবণ মেঘ, আশ্বিনের বৃষ্টিহীন চিকন-সাদা মেঘের ভেলা, বুকে বুকে জড়িয়ে আকাশের কপাল জুড়ে মেঘের যাওয়া- আসা,  ওড়না ওড়ানো দিগঙ্গনার মেঘ, মহাপ্রলয়ের জয়পতাকার মতো মেঘ, অলৌকিক বাইসন- মোষ মেঘ, কালো গাভীর মতো মেঘ, স্ফীত কেশর সিংহের মতো মেঘ, সঙ্গী মেঘসহ রবীন্দ্রনাথের সকল মেঘদল একসময় প্রভুর কাছে একটি মাত্র নমস্কারে নত হয়। তখন বিনম্র প্রার্থনার অনুষঙ্গে শ্রাবণের মেঘ ভেসে উঠে:


‘ঘন শ্রাবণমেঘের মতো রসের ভারে নম্র নত 


একটি নমস্কারে, প্রভু, একটি নমস্কারে 


সমস্ত মন পড়িয়া থাক্ তব ভবনদ্বারে’ (পূজা পর্বের গান)


মেঘে মেঘে কবির সকল বেলা নানা রঙে রঞ্জিত। তার ছোট গল্প- ‘মেঘ ও রৌদ্র’- এ শিক্ষক শশিভূষণের সঙ্গে দশ বছরের ছাত্রী গিরিবালার অসম প্রেমকাহিনী যেন চঞ্চল রৌদ্র ও চঞ্চল মেঘের মতো। যেন…..‘শুভ্র স্ফীত মেঘ আকাশের প্রান্তভাগে স্তূপাকার হইয়া পড়িয়া আছে।’ 


এছাড়া ‘ভিখারিনী’, অতিথি দুরাশা, প্রতিবেশিনী, আপদ, হৈমন্তী ইত্যাদি গল্পে মেঘের নানা অনুষঙ্গ এসেছে চরিত্রের হাসি-কান্নার দোলাচলে। ১৮৯২ সাল। ১২ জ্যৈষ্ঠ, বোলপুরে বসে কবি ছিন্নপত্রে লিখলেন…..‘তখন সূর্য অস্ত গেছে, কিন্তু অন্ধকার হয়নি। একবারে দিগন্তের প্রান্তে যেখানে গাছের সার নীল বর্ণ হয়ে দেখা যাচ্ছে তার ওপরেই ঠিক একটি রেখামাত্র খুব গাঢ় নীল মেঘ উঠে খুব চমৎকার দেখতে হয়েছে।….. ঠিক যেন নীল চোখের পাতার ওপরে নীল সুরমা লাগিয়েছে।’ 


জাপান যাত্রী : পত্র-৬ বর্ণনায় পাই….. 


‘আকাশের দিগবলয়কে বলি উলঙ্গতা। ওখানে মেঘে মেঘে রূপের এবং রঙের অহেতুক বিকাশ। এ যেন গানের আলাপের মতো, রাগরাগিণীর আলাপ চলছে…… তাল নেই, আকার আয়তনের বাঁধাবাঁধি নেই, ….কেবলমাত্র মুক্ত সুরের লীলা।’


এরপর কবি-ছড়াকার সুকুমার রায়ের মেঘ বর্ণনায় পাই মেঘের মরণের কথা। জলভরা মেঘ থেকে যখন বৃষ্টি ঝরে যায়, তখন মেঘের মরণ হয়। মেঘের শিশুরা আকাশ-দোলনায় ঘুমায়। ভোরের সূর্য আবার মেঘশিশুদের ঘুম ভাঙায়। সকাল-বিকালে আকাশে মেঘের মেলা জমে। মেঘের নৌকা নানা রঙের পাল তুলে চলে। জোসনার মেঘ পাল্লা দিয়ে চলে চাঁদের সঙ্গে। যাবে অকুলের সন্ধানে। কবি আগল ভাঙা পাগল মেঘ সম্পর্কে বলছেন যে…. 


‘ঝড়ের মুখে স্বপন টুটে আঁধার আসে ঘিরে


মেঘের প্রাণে চমক আনে আকাশ চিড়ে চিড়ে। 


বুকের মাঝে শঙ্খ বাজে- দুন্দুভি দেয় সাড়া! 


মেঘের মরণ ঘনিয়ে নামে মত্ত বাদল ধারা।’ 


কবির ছোট মেঘ, বাতাসের কানে কানে কথা বলা অবুঝ মেঘ, ধারি মেঘ, বুড়ো মেঘ, ঢিপি মেঘ, মিটিং করা মেঘ, জটাধারী মেঘ, গুরু গুরু মেঘ, জড়ো মেঘ, চারদিক হানা দেয়া হড়্ হড়্-কড়্ কড়ে মেঘ যেন আকাশের সমস্ত নীলবসনা উড়িয়ে দিতে চায়। 


সুকুমার রায় তার ‘মেঘের খেয়াল’ ছড়ায় লিখলেন  যে…..


‘কি যে ভাবে চুপচাপ, কোন ধ্যানে থাকে- 


আকাশের গায়ে গায়ে কত ছবি আঁকে। 


কত আঁকে কত মোছে, কত মায়া করে, 


পলে পলে কত রঙ কত রূপ ধরে।।’    


পুরাকালে মেঘের সঙ্গে হাতির উপমা ছিল একটা রীতি। কথিত আছে, পুরাকালে হাতিদের ডানা ছিল এবং ডানায় ভর দিয়ে পাখির মতো সারা আকাশে তারা উড়ে বেড়াতো। কোনো এক তপস্যামগ্ন মুনির অভিশাপে হাতির ডানা দুটি খসে যায়। এই পৌরাণিক রীতির সমকালীন সফল প্রয়োগ করেছেন খ্যাতিমান ছড়াকার আলম তালুকদার তার ‘মেঘের যাদু’ ছড়ায়। এখানে তিনি অসীম যাদুকর মেঘের মধ্যে দেখতে পান দশটা হাতির শুঁড়, দশটা ঘোড়ার লেজ, দশটা ভালুকের হিংস্র রূপ, দশটা বাঘের ভয়ংকর যুদ্ধংদেহী মূর্তি, মেঘে মেঘে দশটা পাহাড়ের নির্মাণ, সেই দশ পাহাড়ের চূড়ায় বসা দশটি ঈগল বসার অবয়ব। কালো মেঘের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যে আলম তালুকদার পশুর রাজা সিংহের দানবীয় রূপ দেখতে পেয়েছেন। ‘মেঘের কালো’ ছড়ায় সন্ত্রাসী মেঘ নীল আকাশকে অগ্নিগর্ভ করে ধমক দিয়ে অশুভ ইঙ্গিত করছে কবিকে …. 


‘মেঘের কালো হিসহিসানি


আকাশ জমিন অদ্য 


বন্দি হয়ে বেবাক জীবন 


ভুলে সরল পদ্য। 


চিরিক দিয়ে আকাশ ফাটে-


অগ্নিগিরি চমকায়


নীল আকাশের সন্ত্রাসী রূপ


কেবল আমায় ধমকায়।’


রবীন্দ্রনাথ যখন নীল আকাশের দিগবলয়কে মেঘের বহুমাত্রিক রঙ ও রূপে সাজিয়ে মেঘের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, একালে বসে আলম তালুকদার মেঘের পদাবলী রচনা করলেন নতুন বৈদগ্ধে। মেঘের যে সহস্র ঢঙের রংমালা, বহুরূপী উদ্ভাস তার সঙ্গে কবির কষ্টের স্বপ্নগুলো এলোমেলো খেলা করে। মেঘদূতের কবির মতো আলম তালুকদারও মেঘের সঙ্গে আলাপ করেন। চিরায়ত কবির অন্তর দিয়ে তিনি মেঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন।


 




মেঘশিল্পী : পরম্পরায় কবি-ছড়াকার আলম তালুকদার