দেশি বার্তা - ২৪ ঘন্টা দেশের খবর

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

সাজঘরে নাসির, পাকিস্তান ৪১/১ | Arthosuchak


বিশ্বকাপের ১১তম আসরের ২৫তম ম্যাচে নেপিয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করছে পাকিস্তান। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটের বিনিময়ে ৪১ রান।


নাসির জামশেদের উইকেট পাওয়ার আমিরাতের উল্লাস

নাসির জামশেদের উইকেট পাওয়ার আমিরাতের উল্লাস



আহমেদ শেহজাদ ২০ ও হারিছ সোহাইল ১৪ রানে ব্যাট করছেন।


দলীয় ১০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪ রানে মানজুলা গৌরজের বলে খুররাম খানের হাতে তালুবন্দি হয়ে ফিরেছেন নাসির জামশেদ।


সংযুক্ত আরব আমিরাত স্কোয়াড:
মোহাম্মদ তৌকির (অধিনায়ক), আমজাদ আলী, এআর বেরেনগার, কৃষ্ণ চন্দ্রন, খুররাম খান, স্বপ্নিল পাতিল, সাইমান আনোয়ার, রোহান মুস্তাফা, মোহাম্মদ নাভেদ, আমজাদ জাভেদ ও মানজুলা গৌরজ।


পাকিস্তান স্কোয়াড:
মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক), আহমেদ শেহজাদ, নাসির জামশেদ, হারিছ সোহাইল, সোয়াইব মাকসুদ, উমর আকমল, শহীদ আফ্রিদি, ওয়াহাব রিয়াজ, সোহাইল খান, রাহাত আলী এবং মোহাম্মদ ইরফান।




সাজঘরে নাসির, পাকিস্তান ৪১/১ | Arthosuchak

'জিহাদিদের যৌন আবেদনে' আকৃষ্ট ব্রিটিশ মেয়েরা


islamic state


ইসলামিক স্টেট

অল্পবয়েসী ব্রিটিশ মুসলিম তরুণীরা কেন জিহাদিদের সাথে যোগ দেবার জন্য সিরিয়ায় যাচ্ছে?


একজন তরুণী বিবিসির নিউজনাইটকে বলেছেন, ইউটিউবে প্রচারণামূলক ভিডিওতে দেখা ‘জিহাদিদের যৌন আবেদন’ তাদের উগ্রপন্থায় আকৃষ্ট হবার পেছনে একটা বড় কারণ।


গত কয়েক মাসে বেশ কিছু ব্রিটিশ তরুণী জিহাদিদের সাথে যোগ দেবার জন্য তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় গেছে। সবশেষ দুজন বাংলাদেশী-বংশোদ্ভূত স্কুলছাত্রীসহ পূর্ব লন্ডনের তিন তরুণীর সিরিয়ায় চলে যাবার খবর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।


কেন এই তরুণীরা উগ্রপন্থার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাব দিতে বিবিসির সাথে কথা বলেছেন আয়েশা নামের মধ্য ইংল্যান্ডের বাসিন্দা একজন ব্রিটিশ তরুণী যিনি নিজেও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইসলামী উগ্রপন্থার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।


is british girls


সিরিয়ায় চলে যাওয়া তিন ব্রিটিশ তরুণী

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, ইসলামিক স্টেট তাদের যোদ্ধাদের শারীরিক আকর্ষণকে তরুণী মেয়েদের আকৃষ্ট করার জন্যবিজ্ঞাপন হিসেবে ব্যবহার করতে অনাগ্রহী নয়।


আয়েশা নিউজনাইটকে বলছেন, তার যখন বয়েস ১৬-১৭ তখন তিনি ইসলামিক স্টেট নয়, বরং তার পূর্বসূরী আল-কায়েদা বা আল-শাবারের ভিডিও দেখতেন এবং সেগুলোকে তার খুবই ‘আকর্ষণীয়’ এবং ‘গ্ল্যামারাস’ বলে মনে হতো।


“আমার মনে হতো, আমি তো এমন একজনকে পেতে পারি যে আমার নিজ ধর্মের – কিন্তু আবার ভিনদেশী – ব্যাপারটা খুবই উত্তেজনাকর। যাকে বলা যায়, অজানার আকর্ষণ।”


“তার পর ফেসবুকে হয়তো এমন একজন লোকের ছবি দেখলাম যে শহীদ হয়েছে, দেখে আমার মনে হতো – হায়, এই লোকটিকেই তো আমি অন্য একটি ভিডিওতে দেখেছি – আর এখন সে মারা গেছে!”


is_amwazi_jihadi john


ব্রিটিশ পত্রপত্রিকায় ‘জিহাদি জন’

আয়েশা বলেন, তখন এমন অনুভূতি হতো যে ‘মারা যাবার আগেই এমন একজন লোককে পেতে হবে’।


“মনে হতো, তাহলে তিনি মারা যাবার পর তার সাথে বেহেশতে দেখা হবে” – বলেন তিনি।


তিনি আরো বলেন, ব্রিটেনে ইসলামী নেতারা তাদের বক্তৃতায় এই দেশকে বিধর্মী, শত্রু, এবং মুসলিম-হত্যাকারী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেন। “বলা হয় এই রাষ্ট্র ও পুলিশকে বিশ্বাস না করতে এবং সরকারি স্কুলে ছেলেমেয়েদের না পাঠিয়ে ইসলামী স্কুলে পাঠাতে। সালাফি ও ওয়াহাবীরা মনে করে যে ব্রিটেন একদিন শরিয়া রাষ্ট্র হবে। তারা অমুসলিম ব্রিটিশ মেয়েদের নিয়ে বিদ্রুপ করে।”


তবে আয়েশা বলেন, “আমি যে ধর্মীয় গোষ্ঠীর সদস্য ছিলাম, তারা ধর্মের সীমার ভেতরে নারীপুরুষের সাম্য উৎসাহিত করতে চাইলেও – কোন কোন ক্ষেত্রে তারা যে নারীদের প্রতি সুবিচার করতে পারছে না এটা আমি দেখতে পেতাম। তা ছাড়া আরেকটি ব্যাপার ছিল যে অমুসলিমদের হত্যা করতে হবে। প্রধানত এ দুটি জিনিসই আমাকে এই পন্থা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসে।”


আয়েশা আরো বলেন, ‘জিহাদি জন’ বলে পরিচিত মোহামেদ এমওয়াজিকেও তার পুরোনো বন্ধুরা একজন আদর্শ হিসেবে দেখে বলেই তিনি মনে করেন।




'জিহাদিদের যৌন আবেদনে' আকৃষ্ট ব্রিটিশ মেয়েরা

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার



রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বেসরকারি একুশে টেলিভিশনের (ইটিভি) চাকরিচ্যুত সাংবাদিক কনক সারওয়ারকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। টিভি চ্যানেলটির চেয়ারম্যান আবদুস সালামও একই মামলার আসামি। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
গত ৪ জানুয়ারি রাতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০ মিনিটের একটি বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করে ইটিভি। এরপর ৬ জানুয়ারি ভোরে কারওয়ান বাজারে ইটিভির কার্যালয়ের নিচ থেকে আবদুস সালামকে ধরে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ৭ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, একুশে টিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালামসহ আরও চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মামলার আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারেক রহমান প্রধান বিচারপতির প্রতি অবজ্ঞা, বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন।
ডিবি সূত্র জানায়, কয়েক দফা রিমান্ড শেষে আবদুস সালাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার সঙ্গে ইটিভির সাংবাদিক কনক সারওয়ার জড়িত আছেন বলে উল্লেখ করেন।





রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ইউনিট


বুধবার, মার্চ ৪, ২০১৫ ১২:৩৭ এ.এম


police

স্টাফ রিপোর্টান, দেশের বার্তা.কম


ঢাকা: পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এক মাসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি স্থায়ী বিশেষ ইউনিট বা কমিটি গঠন করবে। কমিটিতে থাকবেন বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধিরা।


মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্পর্শকাতর মামলাসহ অন্যান্য মামলার তদন্তে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তাছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ পুলিশের মাধ্যমেই তদন্ত হওয়ায় ন্যায় বিচার নিয়েও আপত্তি ওঠে। আবার অধিকাংশক্ষেত্রে তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। অতীত সময়ে পুলিশের করা তদন্ত নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত করতে বিশেষ এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গঠিত হওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুলিশের পরিবর্তে কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করা হবে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘অতীতে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ তদন্ত করে আসছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অধিকতর স্বচ্ছতা আনতে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্থায়ী বিশেষ ইউনিট বা কমিটি করা হবে।’


দেশের বার্তা/মাআসা




পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ইউনিট

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৬ কূটনীতিকের বৈঠকঃ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোগ



মার্চ ০৩



অপরাহ্ন ১১:২০
মঙ্গলবার ২০১৫





1নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাটসহ ১৬টি দেশের কূটনীতিকরা। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে অষ্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ ইউলকক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসময় তিনি একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান। এতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমাদের দেয়া পূর্বের বিবৃতি এবং জাতিসংঘ প্রদত্ত বিবৃতিগুলো উদ্বৃত করে আমরা চলমান সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা আস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে পদেক্ষপ নিতে উতসাহ দিয়েছি। একইসঙ্গে বাংলাদেশে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, প্রগতি, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশের বন্ধু এবং অংশীদার হিসেবে, আমরা বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগকে স্বাগত জানাই। আমরা সকল পক্ষের প্রতি আমাদের অভিন্ন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা অব্যাহত রাখবো।


সন্ধ্যা পৌনে ৭টার সময় রাষ্ট্রদূতরা একটি মাইক্রোবাসে করে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইতালী, ফ্রান্স, জার্মান, জাপান, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে,কোরিয়া, স্পেন,সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার দূতরা ছিলেন।




খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৬ কূটনীতিকের বৈঠকঃ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোগ

রিয়েল এস্টেট জার্নালিস্ট ফোরামের যাত্রা শুরু


স্টাফ রিপোর্টার : বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলো সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন রিয়েল এস্টেট জার্নালিস্ট ফোরাম (আরইজেএফ)।


সম্প্রতি  রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে মাই টিভির সি এম আমিনুল মজলিশকে সভাপতি এবং বাংলাভিশনের রিশান নাসরুল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে একটি কমিটি চূড়ান্ত করা হয়।


এই কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শাহ আলম নূর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিনের রুহুল আমীন রাসেল, সাংগঠনকি সম্পাদক এটিএন নিউজের গোলাম কাদির রবু, দপ্তর সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাবের মাইনুল হাসান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ পদে নতুন বার্তা ডটকমের এস এম এ কালাম এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনোনয়ন করা হয়েছে চ্যানেল-নাইনের ফরহাদ হোসেনকে।


এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চ্যানেল-২৪ এর ফারুক মেহেদী, দৈনিক নয়া দিগন্তের জিয়াউল হক মিজান, এটিএন বাংলার মোরশেদ আলম, এনটিভির হাসানুল  শাওন, যমুনা টিভির সুশান্ত  সিন্হা, দৈনিক বণিক বার্তার জেসমিন মলি এবং দৈনিক সমকালের মিরাজ শামস্।


সংগঠনের সদস্য পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে রিপোর্টিংয়ের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিকেও বিবেচনায় আনা হবে। সদস্যদের এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত মানন্নোয়নে কাজ করে যাবে সংগঠনটি। সভায় উপস্থিত ছিলেন আবু আলী(দৈনিক আমাদের সময়ের), এস এম এ কালাম(নতুন বার্তা ডটকম), রহিম শেখ (দৈনিক জনকণ্ঠ), গৌতম ঘোষ (দৈনিক সংবাদ), এম এন আখতার (দৈনিক সংগ্রাম), সাখাওয়াত সুমন (আলোকিত বাংলাদেশ), এম এম মাসুদ (মানবজমিন), মিজানুর রহমান (ডেইলি অবজারভার), ওবায়দুর রহমান (ভোরের কাগজ), শেখ নাসির হোসেন( বাংলানিউজ২৪ডটকম) আতিক বাবু (দেশ টিভি), সাজ্জাদ বিপ্লব (এসএ টিভি), নীলা হাসনাত (এশিয়ান টিভি), ইমতিয়াজ আহমেদ (সময় টেলিভিশন), বিপ্রজিত বাপ্পা (মোহনা টেলিভিশন) ও  সেজান (একাত্তর টেলিভিশন)।




রিয়েল এস্টেট জার্নালিস্ট ফোরামের যাত্রা শুরু

সংলাপ হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী


tofayel


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি


ঢাকা প্রতিদিন ডটকম:
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপির সাথে কোন সংলাপ হবে না। আল কায়েদা ও আইএস এর জঙ্গিদের সাথে যেমন কেউ সংলাপ করছে না। তেমনি  সন্ত্রাসী দল বিএনপির সাথেও কোন সংলাপ হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কোন নির্বাচনও হবে না।


মঙ্গলবার বিকালে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে ২৩তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনে নেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী সংলাপের আমন্ত্রণ জানালেও কঠিন ও কর্কশ ভাষায় তা প্রত্যাহার করেছেন খালেদা জিয়া। খালেদা শুধু নির্বাচন বর্জনই করেননি, ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা ৫শ স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। ২৪ জন পুলিশ সদস্য ও কয়েকজন নির্বাচন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিলেন।


তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন না করতে পারলে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা নিত। থাইল্যান্ড যথাসময়ে নির্বাচন করতে পারেনি বলে সেখানে সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়েছে।


তোফায়েল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম চেম্বার। আমদানি-রপ্তানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রামের আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী অনেক কাজ হাতে নিয়েছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজ চলতি বছর শেষ হবে।


আনোয়ারা ও মিরসরাইয়ে শিল্পাঞ্চল হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত এর সাথে গত ১মার্চ এ সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এছাড়া জাপানও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। তাদেরকে মিরসরাইয়ে বিনিয়োগ করার জন্য বলা হয়েছে।


কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএমজি টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটার কাজ শেষ হলে ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা যাবে। এই গ্যাস চট্টগ্রামের কারখানাগুলো পাবে। চা সচিবালয় চট্টগ্রামেই থাকবে।


খালেদা জিয়া বার বার পরাজিত হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে ও ২০১৪ সালে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির হাতে পরাজিত হয়েছেন খালেদা। ২০১৫ সালে এসেও তিনি পরাজিত হবেন।


সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, গ্যাসের কারণে চট্টগ্রামে নতুন কোন শিল্প কারখানা হচ্ছে না। ৪শ ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে চট্টগ্রামে ২শ ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া কম্প্রেসারও কম।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালধর, রাশিয়ান কনসুল জেনারেল মি. ওলেক, চেম্বারের পরিচালক, সাবেক পরিচালক, ব্যবসায়ীসহ বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।


এফ এ আরিফ




সংলাপ হবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

খালেদা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চান : কৃষিমন্ত্রী


motia‘খালেদা জিয়ার ডাকা চলমান অবরোধ ও আন্দোলনের সঙ্গে বিদেশী শক্তি জড়িত’ বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নকে খালেদা জিয়া বাধাগ্রস্থ করছেন।


মঙ্গলবার দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া চান বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো আগুনের কাবাব হয়ে যাক। তা না হলে কেমন করে তিনি পেট্রোল বোমাকে উৎসাহিত করেন। এ আন্দোলনের সঙ্গে বিদেশীর যোগসাজশ পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। এ আন্দোলনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরাজিত শক্তি জড়িত। তারা মুক্তিযুদ্ধের বদলা নিতে চায়। এরা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র ও জঙ্গীবাদের হাব বানাতে চায়।’


মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের তখন খালেদা জিয়া উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ এবং এ দেশকে তছনছ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে পরীক্ষা ভ-ুল, পেট্রোল বোমা, অবরোধ ও হরতালসহ ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছেন। পেট্রোলবোমায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে অনেক মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এই ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে ২০ দলীয় ঐক্যজোট। এর নেতৃত্বে রয়েছেন পাকসখী খালেদা জিয়া।


তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে জানুয়ারি থেকে এ তা-বলীলা চালাচ্ছেন খালেদা। নিজেকে অবরুদ্ধ ও নাটকের নায়িকা হওয়া ছাড়া দেশবাসীকে আর কিছু উপহার দিতে পারছেন না। তারা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসীদের তীর্থ ভূমি বানাতে চায়।




খালেদা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চান : কৃষিমন্ত্রী

কোকোর কুলখানি: দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া



কোকোর কুলখানি: দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর চেহলাম উপলক্ষে বুধবার গুলশান কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে দলটি।


চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান রাতে সাংবাদিকদের টেলিফোনে এই কথা জানিয়ে বলেন, ‘‘গুলশান কার্যালয়ে বুধবার সকাল থেকে কুরআনখানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর দোয়া মাহফিল হবে।’’


এছাড়া সারাদেশে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার জন্য দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।


গত ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মরদেহ ২৭ জানুয়ারি দেশে এসে বনানীতে দাফন করা হয়।


গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকায় খালেদা জিয়া ওইসময়ে তার ছোট ছেলের কুলখানি করতে পারেননি। কোকোর মৃত্যুদিন থেকেই গুলশান কার্যালয়ে প্রতিদিন কুলখানি ও দোয়া মাহফিল হচ্ছে। এই চেহলামের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি হবে।


এমকে/এইচজে




কোকোর কুলখানি: দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

মেঘশিল্পী : পরম্পরায় কবি-ছড়াকার আলম তালুকদার


চয়ন সেনগুপ্ত


কবির হৃদয়জুড়ে থাকে সহস্র সাহসী বিশ্বাস। অন্তর্লোকে শুরু হয় তুমুল তোলপাড়। তার  অন্তর্দৃষ্টির আলোর নাচন ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতির পরতে পরতে। তার মানবিক বোধের কর্ষণে তৈরি হয় প্রেম-প্রীতি-ভরসার অমিয় বন্ধন। কবি তখন হয়ে উঠেন নিরন্তর হয়ে উঠার বিধাতা। কবি হলেন ব্যথার এবং বোধনের বিধি। তার কষ্টে, তার সঙ্গ-নিঃসঙ্গতায় পাখি ও প্রকৃতি, মেঘ-বৃষ্টি, আকাশ-বাতাস, তীর ও তেপান্তর, নদী ও নারী, মানুষের মন ও  মাটি, সকল কিছু আপন হয়ে, বন্ধু হয়ে, দূত হয়ে কবির পাশে দাঁড়ায়। কবি কালিদাসের মেঘদূত কাব্যে আমরা দেখতে পাই জলভারনত মেঘের সঙ্গে কবির বিরহ-বন্দনার গভীর সম্পর্ক। কালে কালে মেঘের অনুষঙ্গে, উপমায় কবির লেখনী হয়ে উঠে নানারঙে রাঙানো শৈল্পিক তুলির উদ্ভাস। আকাশ, বাতাস আর আলোর ঝলকানিতে মেঘ যখন হাজার রূপের রোশনাই ছড়ায়, মেঘ যখন জোসনার এবং সন্ধ্যার বাতাস তাড়িত-মেঘমালা হয়, কবিরা তখন সংগোপনে কথা বলেন। এ কথা অনর্গল চলে মেঘের সাথে। সন্ধ্যায়, সকালে, ভর দুপুরে, শাণিত ধবধবে চাঁদনী রাতে, ঝড়ো বাতাসে, বৃষ্টিতে মেঘের নানা গড়নে ও রঙে কবিদের হৃদয়-মন উতলা হয়ে উঠে। বিনির্মাণ চলতে থাকে অন্তর-বাইরে। একটা পাখির মৃত্যুদৃশ্যের আচমকা শোকে রামায়ণের বাল্মীকি শোকগাথা রচনা করেছিলেন। আবার অশোক বনে বন্দিনী সীতার বিরহে রামচন্দ্র যখন ব্যাকুল, সেই বিরহ-বিচ্ছেদের অনুষঙ্গে বাল্মীকি পর্বতের মাথায় বিছানো সাদা মেঘদলকে উত্তরীয় বলেছিলেন। কবি কালিদাস অন্ধ-কামজ বেদনায় যক্ষের বয়ানে অলকাপুরীতে যক্ষপ্রিয়ার নিকট আর্তনাদের বার্তা পৌঁছাতে জলভারনত মেঘকে বাহন করেছেন। আষাঢ়ের প্রথমদিনে পূর্বমেঘ থেকে উত্তরমেঘ অবধি কবির অজস্র আকুতি। রামগিরিতে দাঁড়িয়ে নির্বাসিত যক্ষ মেঘের জন্ম নিয়ে বলছেন……


‘হে মেঘ জানি আমি ভুবনবিশ্রুত তুমি যে পুষ্কর-আবর্তের 


বংশোজাত, আর সেবক ইন্দ্রের, ইচ্ছেমতো নাও নানা রূপ।’


এই পুষ্কর-মেঘ হলো জলভারনত স্ফীত মেঘ। কবি এমন স্ফীত ঐরাবত তুল্য মেঘদলকে সখ্যতায় সতকর্তায় সঞ্চালন করেছেন।


বাংলাসাহিত্যে কাব্যে, কবিতায়, ছড়ায়, ছোট গল্পে, গদ্যেকবি, ছড়াকার এবং ঔপন্যাসিকগণ মানুষের দুঃখ-বেদনা-কান্নার আবহ-অনুষঙ্গকে মেঘের হাজার রূপের সঙ্গে মিশিয়ে প্রকাশ করেছেন। প্রাচীন সাহিত্য থেকে আধুনিক সাহিত্য। মহাকবি বাল্মীকি থেকে কালিদাস। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবি-ছড়াকার সুকুমার রায় থেকে আলম তালুকদার মেঘের সঙ্গে সম্পর্ক পরম্পরায় সকলে যেন একসূত্রে গাঁথা। রবীন্দ্রনাথ যখন মেঘকে সঙ্গী করেন, সমস্ত পৃথিবীকে মেঘলোকে উধাও করেন, অপেক্ষার দুয়ারে বসে বসে মেঘের পরে মেঘ জমান, সেসময় কবি-ছড়াকার সুকুমার রায় তার ছড়ায় মেঘের মরণকে আবিষ্কার করেন। আর আলম তালুকদার তার ছড়ায়-ছন্দে তখন যাদুকর মেঘের পদাবলী রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন তার প্রায় সমগ্র সৃষ্টিতে হয়ে উঠেছেন মেঘশিল্পী। ইংরেজ কবি পি.বি. শেলী এবং উইলিয়াম ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ দু’জনের মেঘ নিয়ে দুটি অমর কবিতা রয়েছে। তারাও মেঘের বংশ হয়েছেন। বৃষ্টি, মেঘ আর বাতাসে মিশে একাকার হয়েছেন। পি.বি. শেলীর রচিত “ঞঐঊ ঈখঙটউ” এবং উইলিয়াম ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ রচিত ….. “ I WANDERED LONELY AS A CLOUD


মেঘের বর্ণনায় পি.বি. শেলী লিখেছেন যে,


Iam the daughter of Earth and Water,And nursling of the Sky,


I pass throughthe poresof the ocean and shores,


I change but Icannot die.


রোমান্টিক কবি ওয়ার্ডস্ওয়ার্থ নির্ভার মেঘ হয়ে ভেসে ভেসে দশ হাজার ফুটন্ত সোনামাখা ড্যাফোডিল, পাহাড় চূড়া, মানুষের ভিড়, ঝিক্মিক্ তারা, নদীর ঢেউ দু’চোখ ভরে দেখতে দেখতে সানন্দে বলেছেন  


I gazed and gazed but little thought 


What wealth the show to me had brought:


আবার মেঘশিল্পী রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে, মেঘ হলো গগনচারী, স্বাধীন এবং কখনো কখনো আকাশের নকিব। তার ‘গৃহত্যাগী মন মুক্তগতির মেঘপৃষ্ঠে আসন নিয়েছে।’ কবির দগ্ধ মেঘ, রঙের পরে রঙ মাখানো মেঘ, গুরু গুরু মেঘ, শ্রাবণ মেঘ, আশ্বিনের বৃষ্টিহীন চিকন-সাদা মেঘের ভেলা, বুকে বুকে জড়িয়ে আকাশের কপাল জুড়ে মেঘের যাওয়া- আসা,  ওড়না ওড়ানো দিগঙ্গনার মেঘ, মহাপ্রলয়ের জয়পতাকার মতো মেঘ, অলৌকিক বাইসন- মোষ মেঘ, কালো গাভীর মতো মেঘ, স্ফীত কেশর সিংহের মতো মেঘ, সঙ্গী মেঘসহ রবীন্দ্রনাথের সকল মেঘদল একসময় প্রভুর কাছে একটি মাত্র নমস্কারে নত হয়। তখন বিনম্র প্রার্থনার অনুষঙ্গে শ্রাবণের মেঘ ভেসে উঠে:


‘ঘন শ্রাবণমেঘের মতো রসের ভারে নম্র নত 


একটি নমস্কারে, প্রভু, একটি নমস্কারে 


সমস্ত মন পড়িয়া থাক্ তব ভবনদ্বারে’ (পূজা পর্বের গান)


মেঘে মেঘে কবির সকল বেলা নানা রঙে রঞ্জিত। তার ছোট গল্প- ‘মেঘ ও রৌদ্র’- এ শিক্ষক শশিভূষণের সঙ্গে দশ বছরের ছাত্রী গিরিবালার অসম প্রেমকাহিনী যেন চঞ্চল রৌদ্র ও চঞ্চল মেঘের মতো। যেন…..‘শুভ্র স্ফীত মেঘ আকাশের প্রান্তভাগে স্তূপাকার হইয়া পড়িয়া আছে।’ 


এছাড়া ‘ভিখারিনী’, অতিথি দুরাশা, প্রতিবেশিনী, আপদ, হৈমন্তী ইত্যাদি গল্পে মেঘের নানা অনুষঙ্গ এসেছে চরিত্রের হাসি-কান্নার দোলাচলে। ১৮৯২ সাল। ১২ জ্যৈষ্ঠ, বোলপুরে বসে কবি ছিন্নপত্রে লিখলেন…..‘তখন সূর্য অস্ত গেছে, কিন্তু অন্ধকার হয়নি। একবারে দিগন্তের প্রান্তে যেখানে গাছের সার নীল বর্ণ হয়ে দেখা যাচ্ছে তার ওপরেই ঠিক একটি রেখামাত্র খুব গাঢ় নীল মেঘ উঠে খুব চমৎকার দেখতে হয়েছে।….. ঠিক যেন নীল চোখের পাতার ওপরে নীল সুরমা লাগিয়েছে।’ 


জাপান যাত্রী : পত্র-৬ বর্ণনায় পাই….. 


‘আকাশের দিগবলয়কে বলি উলঙ্গতা। ওখানে মেঘে মেঘে রূপের এবং রঙের অহেতুক বিকাশ। এ যেন গানের আলাপের মতো, রাগরাগিণীর আলাপ চলছে…… তাল নেই, আকার আয়তনের বাঁধাবাঁধি নেই, ….কেবলমাত্র মুক্ত সুরের লীলা।’


এরপর কবি-ছড়াকার সুকুমার রায়ের মেঘ বর্ণনায় পাই মেঘের মরণের কথা। জলভরা মেঘ থেকে যখন বৃষ্টি ঝরে যায়, তখন মেঘের মরণ হয়। মেঘের শিশুরা আকাশ-দোলনায় ঘুমায়। ভোরের সূর্য আবার মেঘশিশুদের ঘুম ভাঙায়। সকাল-বিকালে আকাশে মেঘের মেলা জমে। মেঘের নৌকা নানা রঙের পাল তুলে চলে। জোসনার মেঘ পাল্লা দিয়ে চলে চাঁদের সঙ্গে। যাবে অকুলের সন্ধানে। কবি আগল ভাঙা পাগল মেঘ সম্পর্কে বলছেন যে…. 


‘ঝড়ের মুখে স্বপন টুটে আঁধার আসে ঘিরে


মেঘের প্রাণে চমক আনে আকাশ চিড়ে চিড়ে। 


বুকের মাঝে শঙ্খ বাজে- দুন্দুভি দেয় সাড়া! 


মেঘের মরণ ঘনিয়ে নামে মত্ত বাদল ধারা।’ 


কবির ছোট মেঘ, বাতাসের কানে কানে কথা বলা অবুঝ মেঘ, ধারি মেঘ, বুড়ো মেঘ, ঢিপি মেঘ, মিটিং করা মেঘ, জটাধারী মেঘ, গুরু গুরু মেঘ, জড়ো মেঘ, চারদিক হানা দেয়া হড়্ হড়্-কড়্ কড়ে মেঘ যেন আকাশের সমস্ত নীলবসনা উড়িয়ে দিতে চায়। 


সুকুমার রায় তার ‘মেঘের খেয়াল’ ছড়ায় লিখলেন  যে…..


‘কি যে ভাবে চুপচাপ, কোন ধ্যানে থাকে- 


আকাশের গায়ে গায়ে কত ছবি আঁকে। 


কত আঁকে কত মোছে, কত মায়া করে, 


পলে পলে কত রঙ কত রূপ ধরে।।’    


পুরাকালে মেঘের সঙ্গে হাতির উপমা ছিল একটা রীতি। কথিত আছে, পুরাকালে হাতিদের ডানা ছিল এবং ডানায় ভর দিয়ে পাখির মতো সারা আকাশে তারা উড়ে বেড়াতো। কোনো এক তপস্যামগ্ন মুনির অভিশাপে হাতির ডানা দুটি খসে যায়। এই পৌরাণিক রীতির সমকালীন সফল প্রয়োগ করেছেন খ্যাতিমান ছড়াকার আলম তালুকদার তার ‘মেঘের যাদু’ ছড়ায়। এখানে তিনি অসীম যাদুকর মেঘের মধ্যে দেখতে পান দশটা হাতির শুঁড়, দশটা ঘোড়ার লেজ, দশটা ভালুকের হিংস্র রূপ, দশটা বাঘের ভয়ংকর যুদ্ধংদেহী মূর্তি, মেঘে মেঘে দশটা পাহাড়ের নির্মাণ, সেই দশ পাহাড়ের চূড়ায় বসা দশটি ঈগল বসার অবয়ব। কালো মেঘের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যে আলম তালুকদার পশুর রাজা সিংহের দানবীয় রূপ দেখতে পেয়েছেন। ‘মেঘের কালো’ ছড়ায় সন্ত্রাসী মেঘ নীল আকাশকে অগ্নিগর্ভ করে ধমক দিয়ে অশুভ ইঙ্গিত করছে কবিকে …. 


‘মেঘের কালো হিসহিসানি


আকাশ জমিন অদ্য 


বন্দি হয়ে বেবাক জীবন 


ভুলে সরল পদ্য। 


চিরিক দিয়ে আকাশ ফাটে-


অগ্নিগিরি চমকায়


নীল আকাশের সন্ত্রাসী রূপ


কেবল আমায় ধমকায়।’


রবীন্দ্রনাথ যখন নীল আকাশের দিগবলয়কে মেঘের বহুমাত্রিক রঙ ও রূপে সাজিয়ে মেঘের ডাকে সাড়া দিয়েছেন, একালে বসে আলম তালুকদার মেঘের পদাবলী রচনা করলেন নতুন বৈদগ্ধে। মেঘের যে সহস্র ঢঙের রংমালা, বহুরূপী উদ্ভাস তার সঙ্গে কবির কষ্টের স্বপ্নগুলো এলোমেলো খেলা করে। মেঘদূতের কবির মতো আলম তালুকদারও মেঘের সঙ্গে আলাপ করেন। চিরায়ত কবির অন্তর দিয়ে তিনি মেঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন।


 




মেঘশিল্পী : পরম্পরায় কবি-ছড়াকার আলম তালুকদার